বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

এক মায়ের নীরব যুদ্ধ: চার প্রতিবন্ধীকে নিয়ে জাহানারার জীবনসংগ্রাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:১৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এক মায়ের নীরব যুদ্ধ: চার প্রতিবন্ধীকে নিয়ে জাহানারার জীবনসংগ্রাম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে একটি টিনের ঘরে নিঃশব্দে চলে এক নারীর যুদ্ধ। বয়স তার ৫৫। নাম জাহানারা বেগম। বয়সের ভার, দারিদ্র্যের যন্ত্রণা আর ভাগ্যের নিষ্ঠুরতার চাপে বহু আগেই ভেঙে পড়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি ভাঙেননি। কারণ তার ভাঙার সুযোগ নেই—চারজন প্রতিবন্ধী মানুষ তার আশ্রিত, তারই সন্তানসম।

টিনের ছোট ঘরেই চারজন প্রতিবন্ধী নিয়ে দিনরাত পার করেন জাহানারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এক সুখী পরিবারের বসবাস, কিন্তু ঘরের ভেতরেই গড়ে উঠেছে এক মায়ের অসীম ধৈর্য, ত্যাগ আর কান্নায় ভেজা ভালোবাসার পৃথিবী।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে মারা যান জাহানারার স্বামী। তখন থেকেই জীবনের মূল আশ্রয় হারান তিনি। সন্তান, ভাইবোন, আত্মীয়—কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। বাধ্য হয়ে ফিরে যান বাবার বাড়িতে, কিন্তু সেখানেও কেউ ছিল না। বাবা-মা দুজনেই মৃত, দুই ভাইয়ের সঙ্গে বহু বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। একসময় ছিল আত্মীয়তার বন্ধন, এখন আছে শুধু একা বেঁচে থাকার লড়াই।

জাহানারার সংসারে চারজন প্রতিবন্ধী সদস্য। প্রত্যেকের গল্প আলাদা, কিন্তু কষ্ট একই। প্রথম কন্যা চাঁদনী (২৬) ও দ্বিতীয় কন্যা আঁখি (২২)—দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। কখনো হাসে, কখনো কাঁদে, আবার কখনো হঠাৎ চুপ হয়ে যায়। মা ছাড়া কেউ তাদের সামলাতে পারে না। ভয় বা অজানা রাগে তারা কখনো ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে।

তৃতীয় সদস্য বোন মিনা আক্তার (৪৩), শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। হাঁটতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর ভেতরে টিউমার ধরা পড়েছে, যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ব্যথায় কাতর মিনা বলেন, “অপারেশন করানো দরকার, কিন্তু টাকাই নাই। পায়ে দাঁড়াতে পারলে আমি কাজ করতাম, আপার কষ্টটা একটু কমত।”

অন্যদিকে ভাগ্নে মনির হোসেন (৩৯) পুরোপুরি দৃষ্টি হারিয়েছেন। জন্ম থেকেই আংশিক অন্ধত্ব ছিল, এখন আর কিছুই দেখতে পান না। চিকিৎসকরা বলেছেন, কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করলে হয়তো চোখে আলো ফিরতে পারে, কিন্তু সেই চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য কোথায়? মনির শান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি আলো দেখি না, কিন্তু জানি আমার খালা আমাদের জন্য দিনরাত লড়ে যায়। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখে।”

এই চারজনের যত্ন নিতে নিতে জাহানারা নিজেই আজ অসুস্থ। ফুসফুস ও হৃদরোগ তাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। অনেক সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবুও থেমে থাকেন না। মেয়েদের খাওয়া, বোনের ওষুধ, ভাগ্নের যত্ন—সব তাকেই সামলাতে হয়। কখনো প্রতিবেশীরা একটু ভাত দেন, কখনো পুরোনো কাপড়। মাসে একবার কেউ সহায়তা করলে কৃতজ্ঞ হয়ে যান। কিন্তু সব দিন সমান যায় না—অনেক দিন পুরো পরিবার না খেয়েই রাত কাটায়।

জাহানারা বেগমের কণ্ঠে নিরাশার মাঝেও মাতৃত্বের মমতা, “বাবা-মা চলে যাওয়ার পর মনে হলো, আমিও একদিন চলে যাব। কিন্তু এদের রেখে কোথায় যাব? এই আমার দুনিয়া, এই আমার বোঝা, আবার এই আমার আশীর্বাদ। নিজের জন্য কিছু চাই না, মরার আগে যদি ওদের একটু ভালো জায়গায় রাখতে পারতাম, তাহলে শান্তি পেতাম।”

প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা বলেন, “ওই ঘরে গেলে বুক ভরে কান্না আসে। দিনরাত ওরা কষ্টে থাকে। কখনো খেতে পায়, কখনো পায় না। জাহানারা নিজেরে ভুলে গেছে, শুধু অন্যদের জন্য বাঁচে।”

সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, “যাদের এক দিনের বিলাসের অর্থেই এই পরিবারটির বছর কেটে যেতে পারে, তারা যদি একটু হাত বাড়ান, তাহলে হয়তো ওদের জীবনটা একটু সহজ হবে।”

আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, “আমি এ পরিবারটি সম্পর্কে জেনেছি। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করব। ব্যক্তিগতভাবেও যতটা পারি সহায়তা করব, ইনশাল্লাহ।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, “ইতোমধ্যে এ চারজনকেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আরও কীভাবে সাহায্য করা যায়, আমরা তা দেখছি।”

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।

অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রতি বছর চার হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, স্বীকৃত হাসপাতালের বিল মন্ত্রণালয় পরিশোধ করে থাকে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করে।

অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০৩টি সভার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।