সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় জেলে শিক্ষক, তবুও বহাল চাকরিতে

মোঃ ফায়জুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় জেলে শিক্ষক, তবুও বহাল চাকরিতে

ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বর্তমানে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জেলে রয়েছেন। তবুও তিনি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বহাল আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কামরুল ইসলামের স্ত্রী রিমা আক্তার (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন (৭ অক্টোবর) স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আদালত কামরুল ইসলামকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন

ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ২ নভেম্বর রিমার বাবা মো. বিল্লাল মিয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “স্ত্রীর আত্মহত্যার পরও কামরুল ইসলাম শিক্ষক পদে বহাল আছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অনিয়ম।”
তিনি অভিযোগ করেন, চাকরি বিধিমালা ২০১৮-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার নবাবপুর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে কামরুল ইসলামের সঙ্গে রিমা আক্তার স্মৃতির বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবাসিক কোয়ার্টারে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরবর্তীতে রিমার বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জেলহাজতে পাঠান।

বিল্লাল মিয়া বলেন, “কামরুলের পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সংসারে সবসময় অশান্তি ছিল। মৃত্যুর আগে আমার মেয়ে চিরকুটে লিখে গেছে — ‘আমার মৃত্যুর জন্য কামরুল দায়ী’। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে এনটিআরসি নিয়োগে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিএড প্রশিক্ষণের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে এক বছরের ছুটি নেন
তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম বলেন, “ইতিমধ্যে কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহা মাকছুদা বলেন, “লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।