শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে

ইটনায় কর্মী সমাবেশে ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের রাজি ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। পাকিস্তানপ্রীতি, মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারকারী গোষ্ঠী, ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার এবং নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় অবস্থানসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি তীব্র অবস্থান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধার দল করি। বাংলাদেশ মানে না, ’৭১ কে অস্বীকার করে—আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।”

তিনি বলেন,
“আমার নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি যে দল করি, সেটা মুক্তিযোদ্ধার দল—বাংলাদেশের দল।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমার দল আমাকে যে মনোনয়ন দিয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা আমি রাখব। ধানের শীষে বিজয় হবেই। বড় নদী থাকলে মরা গরুও ভেসে যায়—নদীর কিছুই হয় না। তেমনি বিএনপি বড় শক্তি, গণশক্তি—আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের সব সেন্টারেই ধানের শীষ পাস করবে, ইনশা আল্লাহ।”

ধর্ম নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমি মুসলমানের ঘরে জন্মেছি। অ, আ পড়ার আগেই আলিফ, বা, তা পড়েছি। আমি নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, কলেমা পড়ে ঘর থেকে বের হই। যারা বলে আমি মুসলমান না—তারা মিথ্যাবাদী, বেইমান, বিশ্বাসঘাতক, স্বাধীনতাবিরোধী।”

জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি আরও বলেন,
“৫ আগস্টের পর জামায়াত বলে—’৭১ কোনো যুদ্ধ না, এটা নাকি গন্ডগোল! এটা নাকি ভারতের হিন্দুরা লাগিয়েছে! এ কথা দুই-তিন দিন শুনেছি। তারপর আর মানতে পারিনি। আওয়ামী লীগ পালিয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধকে খারাপ দেখাবে—এটা হতে পারে না।”

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর আবেগী বক্তব্য—
“৩০ লাখ মানুষ মারা গেল, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত দিল, এক কোটি মানুষ দেশ ছাড়ল। আমাদের সোনার বাংলা পুড়ে ছারখার হলো। এরা বলে যুদ্ধ হয়নি—আপনারা কি মানবেন?”

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ব্যক্তিগতভাবে আমি মুসলমান, ধর্ম পালন করি। কিন্তু এই রাষ্ট্রে হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান সবাই সমান অধিকার পাবে। এটা বাংলাদেশের নীতি, বিএনপির নীতি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এলিম হোসেন

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—

  • উম্মে কুলসুম রেখা — সাবেক সহসভাপতি, জেলা বিএনপি

  • আমিনুল ইসলাম রতন — সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি

  • এস এম কামাল হোসেন — সভাপতি, ইটনা উপজেলা বিএনপি

  • মনির হোসেন — সিনিয়র সহসভাপতি

  • পলাশ রহমান — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

  • তারিকুল ইসলাম জুয়েল — সাংগঠনিক সম্পাদক
    এছাড়াও স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

সমাবেশজুড়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ, বিএনপির আদর্শ, গণতন্ত্র, ধর্মীয় সমতা ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়।


কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।