সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

ভৈরবের মৌটুপী গ্রামে ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবের মৌটুপী গ্রামে ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের দীর্ঘ ৫৫ বছরের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে এ বিরোধে গত পাঁচ দশকে ১৮ জন নিহত, সহস্রাধিক মানুষ আহত এবং কয়েকশ বাড়িঘর ভাঙচুর–লুটপাট হয়েছে। উভয় পক্ষের নামে শতাধিক মামলাও চলমান।

দুই বংশের নেতৃত্বে ছিলেন সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. তোফাজ্জল হক। গ্রামের মানুষজনের কাছে মৌটুপী দীর্ঘদিন ধরেই ‘দাঙ্গাবাজ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুলিশের আসামি ধরতে গেলে পুলিশকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার।

৫৫ বছরের এই সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম, যিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী। তাঁর নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম দুই পক্ষকে আলোচনায় বসান।

গত সপ্তাহে মৌটুপী গ্রামে দুই বংশের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়—এখন থেকে তারা আর কখনো সংঘর্ষে জড়াবে না। ছোট-বড় সব ধরনের বিরোধ মিলেমিশে মীমাংসা করবেন। বর্তমানে চলমান মামলাগুলোও সংসদ নির্বাচনের পর আলোচনা করে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ভিপি সাইফুল হকের বাড়িতে দুই পক্ষের যৌথ আহারের আয়োজন করা হয়। খাবারের পর চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ ও তোফাজ্জল হক কোলাকুলি করেন এবং পরস্পরকে মালা পরিয়ে দেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহিন, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই বংশের নেতারাই ঘোষণা দেন—এখন থেকে তারা একসঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে গ্রামে বসবাস করবেন।

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সরকার মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন,
“আমরা আর ভবিষ্যতে কোনো সংঘর্ষে জড়াব না।”

সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হক বলেন, “এখন থেকে ভাই ভাই হয়ে গ্রামে থাকবো।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নেতা শরীফুল আলমের নির্দেশে ৫৫ বছরের শত্রুতার ইতি টানতে পেরেছি।”

সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম জানান, “একটি কুচক্রী মহল দুই বংশকে বিবাদে জড়িয়ে ফায়দা লুটত। এখন গ্রামে শান্তি ফিরেছে।”

ভিপি সাইফুল হক বলেন, “এটি আমার গ্রামের মানুষ। বহু বছরের চেষ্টা শেষে আমরা সফল হয়েছি।”

এভাবেই বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় অবশেষে মৌটুপী গ্রামে পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বের অবসান হলো।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।