বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

দিল্লিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দিল্লিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রতীকী চিত্র।

ভারতের উত্তর প্রদেশের দিল্লি অঞ্চলের গ্রেটার নয়ডার বেটা–২ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার

পুলিশ জানায়, বাড়ির মালিক এক দিনের বেশি সময় শাহরিয়ারকে না দেখে খোঁজ নিতে যান। এ সময় ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে থাকা তাঁর লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গ্রেটার নয়ডা–১ সার্কেল অফিসার হেমন্ত উপাধ্যায়

বাড়ির মালিক তদন্তকারীদের বলেন, শাহরিয়ার ওই বাসায় উঠেছিলেন রুপা নামের এক নারীর সঙ্গে, যিনি ভারতের বিহার রাজ্যের বাসিন্দা। তাঁরা নিজেদের বিবাহিত দম্পতি পরিচয় দিয়ে ৮ হাজার রুপিতে কক্ষটি ভাড়া নেন। তাঁরা ১৭ নভেম্বর সেখানে ওঠেন।

পুলিশ জানায়, রুপাকে সর্বশেষ ২১ নভেম্বর বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। এরপর থেকেই শাহরিয়ারের ফোন বন্ধ ছিল। রবিবার জানালা দিয়ে উঁকি দিতেই তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখা যায় বলে জানান বাড়ির মালিক।

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তার বাবা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মোঃ নোওয়াফ হোসেন (১৬)। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন আলোর মেলা এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নোওয়াফ হোসেন কাউকে কিছু না জানিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর ছাত্রাবাস কিংবা বাড়িতে ফিরে আসেননি। নিখোঁজের চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা খায়রুল আলম জানান, ছেলেকে উদ্ধারের আশায় আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খোঁজ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নোওয়াফ হোসেনের গায়ের রং ফর্সা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং শারীরিক গঠন মাঝারি। তিনি কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জিডির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন,
‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এ ধরনের মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।