শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় একটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর বাজারসংলগ্ন মোদক বাড়ির আকরাবাড়ি দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবোধ মোদক ও রনজিত মোদক—দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের পক্ষের লোকজন সুবোধ মোদক, তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সুবোধ মোদক পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজনকে নিয়ে সন্ধ্যায় একটি সালিশের আয়োজন করেন। তবে ওই সালিশে রনজিত মোদক উপস্থিত ছিলেন না।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মোদক অভিযোগ করেন, সালিশে আসা কিছু লোকজন মন্দিরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অন্যদিকে দেবু মোদক দাবি করেন, সীমানা বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের ছেলে সৌরভ মোদক (২৮) সুধীর মোদকের ছেলে সূজন মোদক (১৪) ও মানিকা মোদককে মারধর করে। এতে সূজন মাথায় আঘাত পেয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং মন্দিরের টিনের বেড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর বাজিতপুর উপজেলা আহ্বায়ক সুজন বণিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালিশ বসার কথা থাকলেও এক পক্ষ অনুপস্থিত ছিল। পরে মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পিরিজপুর বাজারের সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, “এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়; বরং দুই পরিবারের ব্যক্তিগত বিরোধ। প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রতিমাটি পরিকল্পিতভাবে উল্টে ফেলা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।”

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তিনি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক সীমানা বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভাঙচুরের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে মন্দিরের টিনের বেড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্দির কমিটিকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

একটি হাসি,যে হাসিতে ছিল স্বপ্নের আলো। এক জোড়া চোখ,যেখানে ছিল ভবিষ্যতের হাজারো গল্প।আর আজ-সেই মানুষটি লড়ছে বেঁচে থাকার জন্য, প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চৌদার মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল (ছদ্মনাম) বর্তমানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জুয়েলের শরীরে দুটি টিউমার ধরা পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই তাকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণেও চরম কষ্ট হচ্ছে, আর প্রতিটি দিনই তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।

জুয়েল ছিলেন এক সাধারণ তরুণ, যার ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন—পরিবারকে ভালো রাখা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই মরণব্যাধি ক্যান্সার তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে।

বর্তমানে তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হলে জুয়েলের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা একটি দিনমজুর পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

ইতোমধ্যে আত্মীয়স্বজন ও কিছু মানবিক সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন।

জুয়েলের বড় ভাই সোহেল মিয়া বলেন, “ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে। এখন সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই একমাত্র ভরসা।”

স্থানীয় কলামিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী এস এম মিজানুর রহমান মামুন দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি মানুষের জীবন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো। আসুন, আমরা সবাই মিলে জুয়েলের পাশে দাঁড়াই।”

সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসে এই তরুণের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করার জন্য।

কিশোরগঞ্জে কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়ন-এর বরুঙ্গাচর গ্রামে অবস্থিত কালোয়ার মা দরগা জামে মসজিদ-এর তিনতলা দালানের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাসেম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মালেক মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, আপাতত মসজিদের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পুরো তিনতলা ভবনের কাজ শেষ করা হবে।

প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক মসজিদের নির্মাণকাজে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

হোসেনপুরে পুলিশের অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পুলিশের অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৯ হাজার ৬০০ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. রাসেল সিরাজী (৩৯), পিতা: মো. মোতাহার উদ্দিন, মাতা: হাফসানা বেগম, সাং: প্যারাভাঙ্গা, থানা: কিশোরগঞ্জ সদর এবং মো. সোহেল রানা (৩৭), পিতা: মো. দেলোয়ার হোসেন, মাতা: মৃত বেদেনা বেগম, সাং: বাসুরচর, থানা: হোসেনপুর, জেলা: কিশোরগঞ্জ।

হোসেনপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৯ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।