শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় একটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর বাজারসংলগ্ন মোদক বাড়ির আকরাবাড়ি দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবোধ মোদক ও রনজিত মোদক—দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের পক্ষের লোকজন সুবোধ মোদক, তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সুবোধ মোদক পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজনকে নিয়ে সন্ধ্যায় একটি সালিশের আয়োজন করেন। তবে ওই সালিশে রনজিত মোদক উপস্থিত ছিলেন না।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মোদক অভিযোগ করেন, সালিশে আসা কিছু লোকজন মন্দিরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অন্যদিকে দেবু মোদক দাবি করেন, সীমানা বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের ছেলে সৌরভ মোদক (২৮) সুধীর মোদকের ছেলে সূজন মোদক (১৪) ও মানিকা মোদককে মারধর করে। এতে সূজন মাথায় আঘাত পেয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং মন্দিরের টিনের বেড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর বাজিতপুর উপজেলা আহ্বায়ক সুজন বণিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালিশ বসার কথা থাকলেও এক পক্ষ অনুপস্থিত ছিল। পরে মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পিরিজপুর বাজারের সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, “এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়; বরং দুই পরিবারের ব্যক্তিগত বিরোধ। প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রতিমাটি পরিকল্পিতভাবে উল্টে ফেলা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।”

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তিনি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক সীমানা বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভাঙচুরের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে মন্দিরের টিনের বেড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্দির কমিটিকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।