সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

গেল বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রধান শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক নেতারা বাংলাদেশের মানুষকে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে সবাইকে দেখে নেবেন-এমন হুমকিও দেন।

তিনি ভারতে বসে আত্মগোপনে থাকা তার দলের নেতাকর্মীদের ভয়েস কলে নানা নাশকতামূলক অপতৎপরতার নির্দেশনা দেন। তা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে নানারকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষ সোচ্চার হয়। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণহত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশ ও ঢাকার বিশেষ আদালত থেকে রাজউকের প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় প্রথমে ২১ বছরের সাজা হয়, পরে আরও এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই যখন বাস্তবতা তখন দেশের মানুষের কাছে ভীতিকর এই দলটি নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরিসহ নির্বাচন বানচালের সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালাতে পারে। ৩২টি সংসদীয় আসনে ঢুকে যেতে পারে প্রতিবেশী দেশে পলাতক দলটির নেতারা।

ওইসব আসনে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে তারা। সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনে সহিংসতা চালাতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে তারা সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে পারে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উসকানি ও মদদ দিয়ে তাদের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করাসহ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।

একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী চক্রান্তের এমন সব তথ্য। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগের যে অপতৎপরতার ছক উঠে এসেছে সে বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিটির সদ্য সাবেক প্রধান ও সুশাসনের জন্য সাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরিতে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ বিষয়ে সরকারকে সজাগ হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে অনেক ঝুঁকি থেকে দেশ রক্ষা পাবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান নিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে গোপন বৈঠক করছে। এছাড়া অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দেওয়াসহ ধর্মীয় অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ডিপ ফেক ভিডিও, মিথ্যা ভাষণ বা নকল বার্তা তৈরি করে অসত্য তথ্য প্রচার করতে পারে। গোয়েন্দারা জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা জেলার ১০টি আসনে চরমপন্থিদের তৎপরতা আছে। পার্বত্য জেলার তিন আসনে রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী লীগ এসব চরমপন্থি গ্রুপ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে আওয়ামী লীগ।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দেশের ভেতরেও তাদের লোক আছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রতিরোধের কথা একাধিকবার বলেছেন। এ বিষয়ে করণীয় কী জানতে চাইলে সাবেক এই আইজিপি বলেন, পুলিশ, বিডিআর এবং সেনাবাহিনী তৎপর থাকলে তারা সফল হতে পারবে না বলে আমি মনে করি। সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩৪০টি অস্ত্র। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদককারবারি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানা ঘেরাওসহ নানা কারণে পুলিশের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। পুলিশের মনোবল দ্রুত চাঙা ও সক্রিয় করা না গেলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ৫ আগস্টের পর যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়েছে তারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাগুরা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত। দলটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে ওইসব এলাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে তারা। পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দে যেতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট সীমান্তবর্তী সংসদীয় আসন সংখ্যা ৬২টি। এগুলোর মধ্যে ৩২টি আসনে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার শতকরা ১০ ভাগের বেশি। ১০টি নির্বাচনি আসনে চরমপন্থি ও তিনটি আসনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা আছে। ২৬টি আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (হিন্দু) ভোটের হার ২০ ভাগের বেশি। ৭৮টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট ৫০ হাজারের বেশি। এসব ভোট আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে এসব ভোটার ভোট প্রদানে বিরত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে চাপাচাপি করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১১ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ২ হাজার ৬৮৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ২৫৬টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৫৬টি। মোট ঘটনার ৭৬ ভাগই হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। মাত্র ২ ভাগ ঘটেছে সাম্প্রদায়িক কারণে। বাকিগুলো ঘটেছে অন্যান্য কারণে।

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে কমবেশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার এবং পদ-পদবিসহ নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে এসব কোন্দল তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির অন্তর্কোন্দলে শতাধিক নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বিএনপি বনাম অন্যান্য দলে কোন্দলে নিহত হয়েছেন ২১ জন এবং আহত হয়েছেন ৪২১ জন। রাজনৈতিক কোন্দল থামাতে না পারলে নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও হতাহত অনেক বাড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বট ও ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানোর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা আছে জানিয়ে এতে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আধিপত্য বিস্তার, ভোটারদের হুমকি দেওয়া, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দান, এজেন্ট বের করে দেওয়া, জাল ভোট দেওয়া, অবৈধ অর্থের ব্যবহার ইত্যাদি কারণে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থদের মধ্যে সংঘাত, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বলেন, সব ধরনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমরা কাজ করছি। তফসিল ঘোষণার পরপর আমাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যাবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার হবে। নির্বাচনকালীন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
রোজায় ৪০০ পরিবারে ইফতার পৌঁছে দিলেন প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেন

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বর্শিকুড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের উদ্যোগে ৪০০টি পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বর্শিকুড়া ও আদুমাস্টার বাজার এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে এসব ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় অসচ্ছল ও রোজাদার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত তোফাজ্জল হোসেন নিজ গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বিশেষ করে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর তিনি এলাকার রোজাদার মানুষের মাঝে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন।

তোফাজ্জল হোসেনের ভাই নজরুল ইসলাম জানান, প্রবাসে থাকলেও তোফাজ্জল সবসময় গ্রামের মানুষের খোঁজখবর রাখেন। রমজান মাসে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রতি বছরই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকৃত পরিবারের সদস্যরা প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনা করেন।

অষ্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা মোস্তাকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা মোস্তাকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার আখড়া বাজার এলাকায় উপজেলা ছাত্রদল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি খণ্ডিত ও বিকৃত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে আল মাহমুদ মোস্তাককে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট বক্তব্যটি খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার প্রতিফলন নয়। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আল মাহমুদ মোস্তাকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।