কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় একটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর বাজারসংলগ্ন মোদক বাড়ির আকরাবাড়ি দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবোধ মোদক ও রনজিত মোদক—দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের পক্ষের লোকজন সুবোধ মোদক, তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সুবোধ মোদক পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজনকে নিয়ে সন্ধ্যায় একটি সালিশের আয়োজন করেন। তবে ওই সালিশে রনজিত মোদক উপস্থিত ছিলেন না।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মোদক অভিযোগ করেন, সালিশে আসা কিছু লোকজন মন্দিরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অন্যদিকে দেবু মোদক দাবি করেন, সীমানা বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের ছেলে সৌরভ মোদক (২৮) সুধীর মোদকের ছেলে সূজন মোদক (১৪) ও মানিকা মোদককে মারধর করে। এতে সূজন মাথায় আঘাত পেয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং মন্দিরের টিনের বেড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর বাজিতপুর উপজেলা আহ্বায়ক সুজন বণিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালিশ বসার কথা থাকলেও এক পক্ষ অনুপস্থিত ছিল। পরে মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
পিরিজপুর বাজারের সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, “এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়; বরং দুই পরিবারের ব্যক্তিগত বিরোধ। প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রতিমাটি পরিকল্পিতভাবে উল্টে ফেলা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।”
বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তিনি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক সীমানা বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভাঙচুরের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে মন্দিরের টিনের বেড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্দির কমিটিকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।