মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

অনুশোচনায় ফেরত দিল দামি বাদ্যযন্ত্র, রেখে গেল ‘মাতাল ছিলাম’ চিরকুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অনুশোচনায় ফেরত দিল দামি বাদ্যযন্ত্র, রেখে গেল ‘মাতাল ছিলাম’ চিরকুট

চুরি করার পর চোর সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। তবে বড়দিনের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও নাটকীয় ঘটনা। ‘দুঃখিত, আমি মাতাল ছিলাম’—এমন একটি চিরকুট রেখে চুরি করা মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র মালিকের কাছেই ফেরত দিয়ে গেছে এক চোর।

ঘটনাটি ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লার্ক স্ট্রিট মিউজিক নামের একটি বাদ্যযন্ত্রের দোকানে। বড়দিনকে কেন্দ্র করে যখন চারদিকে উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই দোকানটিতে হানা দেয় ওই চোর।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে নিজের জ্যাকেটের নিচে লুকিয়ে দোকান থেকে দুটি দামি ম্যান্ডোলিন চুরি করে নিয়ে যায় সে। পরে উদ্ধার হওয়া ম্যান্ডোলিন দুটির বাজারমূল্য ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

দোকানটির মালিক বাজি লেভিন চুরির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চোরটি বুঝতে পারে যে তার পালানোর পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ধরা পড়ার আশঙ্কা ও সামাজিক লজ্জার কারণেই তার মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হয়। পরে সে শুধু চুরি করা বাদ্যযন্ত্রই ফেরত দেয়নি, সঙ্গে রেখে গেছে একটি চিরকুট। সেখানে লেখা ছিল— ‘দুঃখিত, আমি মাতাল ছিলাম। মেরি ক্রিসমাস। আপনি একজন ভালো মানুষ।’

দোকান মালিক বাজি লেভিন জানান, ঘটনার দিন তিনি চোরটিকে ধাওয়া করলেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুরো ঘটনাকে তিনি সিনেমার গল্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

তিনি ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। যদিও বাদ্যযন্ত্রগুলো ফেরত পাওয়া গেছে, তবে পুলিশ এখনো ওই চোরের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।

তুচ্ছ টাকার বিরোধে বাজিতপুরে প্রাণ গেল অটোরিক্সা চালকের

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
তুচ্ছ টাকার বিরোধে বাজিতপুরে প্রাণ গেল অটোরিক্সা চালকের

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় মাত্র ৫–১০ টাকার পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় বিপ্লব (২৮) নামে এক অটোরিক্সা চালক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে বিপ্লব নিজ উদ্যোগে একটি চলাচলের অযোগ্য রাস্তা মাটি ও বালু ফেলে মেরামত করেন। পরে তিনি ওই রাস্তা ব্যবহারকারী অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক দাবি করছিলেন।

এ নিয়ে একই এলাকার এক চালকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পারিবারিক অভিযোগ অনুযায়ী, এর জেরে প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কয়েকজন যুবক বিপ্লবকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবারের দাবি, বিকেলের দিকে তিনি অটোরিক্সা নিয়ে বের হলে নিখোঁজ হন। পরে সন্ধ্যায় বাংলাবাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে একা পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত বিপ্লব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। চার বছর বয়সী কন্যা ও দুধের শিশুসহ পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শহিদুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সামান্য টাকার বিরোধে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভৈরবে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা ৩ জন

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা ৩ জন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা পড়া তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফর্মারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার সরকার বাড়ি সংলগ্ন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় স্থানীয়রা এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-শিবপুর ইউনিয়নের সরকার বাড়ি এলাকার নীল মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়া (৩৫), পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার এলেম উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান (৩০) এবং ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে অলিউল্লাহ বাবু (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আবাসিক প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ভোজ্য তেল বিক্রিতে অনিয়ম: ভৈরবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
ভোজ্য তেল বিক্রিতে অনিয়ম: ভৈরবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভোজ্য তেল ক্রয়-বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভৈরব বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ডিলারদের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে এ অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোজ্য তেল মজুতের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তেল সংরক্ষণকারী ডিলারদের গুদামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সড়ক দখল করে তেল বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্টারে গড়মিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ সময় মেসার্স হাজী হিরা মিয়া স্টোরের মালিক শাহনুর হোসেনকে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সুলতান স্টোরের মালিক সুলতান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ভৈরব শহর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজিদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।