শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

আপিল শুনানি শেষে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আপিল শুনানি শেষে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

এর আগে একটি মামলার বিষয় উল্লেখ করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিল শুনানিতে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও উত্থাপিত আপত্তিসমূহ পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য বলে রায় দেন।

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি দুই যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়নও পান।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা তাঁর দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে বাজিতপুর–নিকলী আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। এতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন।

মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের সমর্থকেরা দীর্ঘ সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। তবে দলীয় মনোনয়ন ফিরে না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ৩ জানুয়ারি তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন। আপিল শুনানি শেষে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইনগত সব বাধা দূর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই, শ্রমিক মজুরি ও দামে দুশ্চিন্তা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও স্বস্তি নেই, শ্রমিক মজুরি ও দামে দুশ্চিন্তা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে বোরো (উপশী) ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে একই সঙ্গে শ্রমিক সংকট, উচ্চ মজুরি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষক আহমেদ আলী জানান, বর্তমানে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি প্রায় ১২০০ টাকা, সঙ্গে দিতে হয় দুই বেলার খাবার। অথচ বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। পাইকাররা বাড়িতে এসে প্রতি মণ ধান প্রায় ৭৫০ টাকা দরে কিনতে চান। এতে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি তুলতেই দেড় থেকে দুই মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জমি চাষ, রোপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সেচসহ এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ১০০০ টাকা। কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। এরপরও জমি ফেলে রাখা সম্ভব নয় বলে বাধ্য হয়েই চাষ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষিশ্রমিক শামীম বলেন, “আমি নিজেও একজন ক্ষুদ্র কৃষকের সন্তান। নিজের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি শ্রমিক হিসেবেও কাজ করি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করি। সেই তুলনায় ১২০০ টাকা মজুরি খুব বেশি নয়। তাছাড়া এই মজুরি ১০-১৫ দিনের বেশি থাকে না, পরে তা কমে ৫০০-৬০০ টাকায় নেমে আসে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে বাজিতপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২ হাজার ৪৫২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই চাষ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭ হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন।

তিনি আরও জানান, সরকারিভাবে এ বছর উপজেলার ৭৫০ জন হতদরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষককে বোরো ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১১০০ জন মাঝারি কৃষককে বীজ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন অর্জন সম্ভব হবে।”

সব মিলিয়ে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও শ্রমিকের উচ্চ মজুরি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারমূল্যের অসামঞ্জস্যতা কৃষি খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস, কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস, কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বারোপ

কিশোরগঞ্জে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ কর্মসূচির আওতায় এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ নবী হোসেন। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি বলেন, “কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের কৃষিকে আরও সহনশীল করতে হবে। এজন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি চর্চা সময়ের দাবি।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, “কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি অত্যন্ত জরুরি। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”

অনুষ্ঠানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি চর্চা, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস: ক্ষমতার খেলা নাকি সেবার রাজনীতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস: ক্ষমতার খেলা নাকি সেবার রাজনীতি?

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যে একটি স্বীকৃত কাঠামো রয়েছে, যেখানে আইন প্রণয়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন- দুইটি দায়িত্ব আলাদাভাবে নির্ধারিত। সাধারণভাবে আইন প্রণেতারা জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন, আর স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই ভারসাম্যই কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য অফিস স্থাপনের উদ্যোগ এই কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অনেকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ধীরে ধীরে এটিকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরা, আইন প্রণয়ন করা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রদান করা। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের জন্য দাপ্তরিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী হিসেবে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে- এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান উদ্যোগকে অনেকেই সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

সমালোচকদের মতে, সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপন করা হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রভাব বাড়বে। এতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনে পরোক্ষ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের কাছে প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের স্থানীয় কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হলে এই বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং উল্টো কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, সংসদ সদস্যরা স্থানীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে সেই ভূমিকা হওয়া উচিত নীতিগত ও তদারকিমূলক- সরাসরি প্রশাসনিক নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরা- এটাই তাদের কার্যকর ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়ই বলা হয়- “রাজনীতি যদি ভারসাম্য হারায়, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।” স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা প্রযোজ্য। কারণ, ক্ষমতার সুষম বণ্টন নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং সেবা বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য- যাতে জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারে।