বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তার বাবা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মোঃ নোওয়াফ হোসেন (১৬)। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন আলোর মেলা এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নোওয়াফ হোসেন কাউকে কিছু না জানিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর ছাত্রাবাস কিংবা বাড়িতে ফিরে আসেননি। নিখোঁজের চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা খায়রুল আলম জানান, ছেলেকে উদ্ধারের আশায় আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খোঁজ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নোওয়াফ হোসেনের গায়ের রং ফর্সা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং শারীরিক গঠন মাঝারি। তিনি কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জিডির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর ৩৮১ থেকে ৪৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি গ্রহণ করবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার শুনানির পঞ্চম দিনে ১০০টি আপিলের শুনানি শেষে ৭৩টি মঞ্জুর, ১৭টি নামঞ্জুর এবং ১০টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত পাঁচ দিনে (শনিবার থেকে বুধবার) মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। নামঞ্জুর বা বাতিল হয়েছে ৮১টি। আর বিভিন্ন কারণে অপেক্ষমাণ রয়েছে ২৩টি আপিল।

কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর এবং অপেক্ষমাণ আপিলের শুনানি হবে। এরপর ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর এবং ১৮ জানুয়ারি (রোববার) শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর ও অবশিষ্ট অপেক্ষমাণ আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শেষ হবে।

এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।

হোসেনপুরে ওয়াজ মাহফিলে জনসমুদ্র: হেলিকপ্টারে আসলো বক্তা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে ওয়াজ মাহফিলে জনসমুদ্র: হেলিকপ্টারে আসলো বক্তা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাবরগাঁও ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ম বার্ষিক বিশাল ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল। দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব জনসমাগম। হোসেনপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায়।

মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তাদের অংশগ্রহণ। বিশেষ করে নন্দিত ওয়ায়েজ মুফতি শাহ্ আহমাদুল্লাহকে হেলিকপ্টারে করে মাহফিল প্রাঙ্গণে আনা হয়, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী সমাজের সহায়তায় এবং বিশেষ উদ্যোগে এই ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে।

মাহফিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সৌদি আরব আলরুইস কমিটির সভাপতি এবং হোসেনপুর উপজেলার ১নং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আজহারুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, তাঁর সার্বিক সহযোগিতা, অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানেই এত বড় পরিসরে শান্তিপূর্ণভাবে মাহফিল আয়োজন সম্ভব হয়েছে।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া মাহফিলে দিনের বেলায় প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি সায়্যিদ ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী (পীর সাহেব, জৈনপুরী)। তিনি কোরআন-হাদিসের আলোকে ঈমান, তাকওয়া ও নৈতিক জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সকাল ১১টায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বয়ান রাখেন মুফতি শাহ্ আহমাদুল্লাহ (খতিব, রূপায়ন টাউন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নারায়ণগঞ্জ)। তাঁর হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে মুসল্লিদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অনেকে আত্মশুদ্ধির আহ্বানে সাড়া দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেষকুড়া আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্বারী মোঃ আঃ হালিম উদ্দিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে বয়ান রাখেন গাবরগাঁও শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আলী হুসাইন নূরী এবং বাজিতপুরের নাজিম ভূঁইয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবু বকর হোসেনপুরী।

মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোঃ মামিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুফতি নোমান বিন আব্দুল হাই ও মাওলানা মোঃ মাজহারুল ইসলাম শফিকুল।

শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। আয়োজক কমিটি মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং অংশগ্রহণকারী সকল মুসল্লি ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।