হাদী হত্যার ঘটনায় আদালত সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর তদন্ত করে আগামী ২০ জানুয়ারিের মধ্যে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এর আদালত এ আদেশ দেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। তবে ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে আজ নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। নারাজির আবেদন শুনানি শেষে আদালত তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি-কে দেয়।
নারাজির আবেদন দাখিলের সময় আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, “এই চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তার কাজ কেবল জমা দেওয়ার জন্য। মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে শুটারদের সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি। হাদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না। তাকে হত্যার জন্য অবশ্যই বড় পরিকল্পনা ছিল। প্রকাশ্যে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে যাতে কেউ তার মতো ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়। পুলিশের চার্জশিটে শুধু একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলের কথা বলা হয়েছে, যা হাস্যকর।”
তিনি আরও বলেন, “চেক জব্দের মতো বিষয় দেখানো হয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর হত্যাকারী কীভাবে নিরাপদে পালালো, তা উল্লেখ নেই। হাদী ন্যায় বিচারের কথা বারবার বলতেন, এবং তাকে হত্যা করা হলে ন্যায় বিচার চেয়েছিলেন। এই কারণে আমরা নারাজি দিয়েছি।”
গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে বাদী আদালতে হাজির হয়ে চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় নেন। আদালত ওইদিন চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ধার্য করেন।
চার্জশিটের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ। এছাড়া পলাতক রয়েছেন– ফয়সালের সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার, এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। তারা হলেন– ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, এবং নরসিংদীতে অস্ত্রসহ আটক মো. ফয়সাল।
তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শরীফ ওসমান হাদী অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২:২০ মিনিটে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর হাদীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে মামলা হত্যার মামলায় রূপান্তরিত হয়।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array