ভৈরবে রাজনৈতিক মোড়, আওয়ামীলীগের তিন জনপ্রতিনিধি বিএনপিতে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘটেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনজন নির্বাচিত সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক কৌতূহল।
রোববার শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ খোরশেদ আলামিনের নেতৃত্বে নবাগত নেতারা ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেন তারা।
অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের এক প্রতীকী মুহূর্তে রূপ নেয়। উপস্থিত নেতাকর্মীদের করতালিতে মুখরিত পরিবেশে যোগদানকারী ইউপি সদস্যরা নতুন যাত্রার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নবযোগদানকারীরা আরও জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীফুল আলমের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন বলে তারা আশাবাদী।
বিএনপিতে যোগদানকারী তিনজন হলেন শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাহ আলম সরকার, ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. হেলাল উদ্দিন এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রত্না বেগম।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দলমত নির্বিশেষে যারা গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং দেশের স্বার্থে কাজ করতে চান, বিএনপি তাদের জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। শিমুলকান্দি ইউনিয়নের এই তিন জনপ্রতিনিধির যোগদান আমাদের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগদান শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। সামনে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষও বিষয়টিকে পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য ও প্রতিযোগিতাকে আরও সক্রিয় করে তুলবে।
সব মিলিয়ে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই পরিবর্তন নতুন দিনের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হয়ে উঠবে মূল লক্ষ্য।







