গাজীরচরে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে ইউনিয়ন বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তিন নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির আনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাজিতপুর উপজেলার শাহজালাল বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাজীরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি নুর আলম হুদা ওরফে আমসু নিজ কার্যালয়ে ভাঙচুর করে ইউনিয়ন বিএনপি ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরেন, যা সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমসু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক ব্যবসা (ইয়াবা), চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সাধারণ জনগণকে সামাজিক ও রাজনৈতিক কোনো আয়োজনে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর আহ্বান জানান।
আজিজুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, বিগত প্রায় ১৫ মাস ধরে আমসুর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর যোগাযোগ নেই। তিনি এককভাবে একটি দোকানের পেছনে উপজেলা বিএনপির কোনো নেতার ছবি না টাঙিয়ে দলীয় শীর্ষ নেতাদের ও নিজের ছবি ব্যবহার করে কথিত ৩ নম্বর ওয়ার্ড অফিস পরিচালনা করছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি নিজেই অফিস ভাঙচুর করেন এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবাদুর রহমান (আনার মেম্বার) বলেন, “আমার সামনেই তিনি নিজেই তার অফিসে ভাঙচুর করেছেন। এরপর গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালান। তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক বাচ্চু মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক শেখ রাফিদ রহমান, বলিয়াদি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মিয়া, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুর্তজা আলী জাহাঙ্গীর, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওসিমুল হক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আলী আহসান সবুজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. শহীদুল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।




