কিশোরগঞ্জের দুই আসনে বিএনপির ভেতরেই বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা
কিশোরগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনে এবার বিএনপির প্রার্থীদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপিরই দুই জনপ্রিয় নেতা। এতে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) এবং কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু। অপরদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। বুধবার তাঁরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিজ নিজ প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক গ্রহণ শেষে উভয়েই জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাঁরা বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
রেজাউল করিম খান চুন্নু ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ওই সময়কার একতরফা নির্বাচনী পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তিনি জনরোষ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিলেন। তবে বর্তমানে এমপি প্রার্থী হিসেবে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন এহসানুল হুদা, যিনি তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বিলুপ্ত করে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেন। এ নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, দল প্রথমে ইকবালকে মনোনয়ন দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে এই দুই আসনে প্রকৃত অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে এই দুটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে। অন্য আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীদের জয় তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন অনেকে।







