বিএনপি নেতার উপর হামলা
কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি
গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ছাত্রদল নেতা কামালের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ লোহাজুরী মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিকালে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচিত সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আলীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা, শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসা ভৈরবের নৈশপ্রহরী দিদারুল ইসলাম ওরফে দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে মোঃ কাইয়ুম ও মোহাম্মদ কাউসার মিয়াসহ কয়েকজনের একটি দল এই হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা আলমগীরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও এখনো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন ১০ জানুয়ারি কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ১৫ থেকে ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীরকে দেখে আসেন এবং পরবর্তিতে ভুক্তভোগীর ফোন দ্বারা থানার কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন। এতে করে আলমগীর আশা করে, বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত শনিবার ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে এগারোটার দিকে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান সাব-ইন্সপেক্টর শফিকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আলমগীরকে ফোন করেন এবং জানান—এই ঘটনায় পুলিশ কিছু করতে পারবে না। আদালতের শরণাপন্ন হতে হতে আদেশ দেন।
এই ফোনালাপের পর আলমগীর ও তার পরিবার আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দেলোয়ার ওরফে দেলু অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রভাব বিস্তার করে পার পেয়ে গেছেন। তারা দাবি করেন,আওয়ামী সরকারের আমলে দেলু ফ্যাসিস্ট লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মস্থল ও এলাকায় তাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবেই পরিচিত বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভৈরবের শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসার নৈশপ্রহরী হওয়া সত্ত্বেও কোন যাদুকাঠির ছোয়ায় রাতের বেলা তাকে এলাকায় দেখা যায়। এতে আতংক আর বাড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেলু একবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে থানা থেকেই মুক্তি পায়। বর্তমানে সে আবারও এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার করছে এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের একটাই দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।




