শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএনপি নেতার উপর হামলা

কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ছাত্রদল নেতা কামালের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ লোহাজুরী মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিকালে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচিত সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আলীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা, শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসা ভৈরবের নৈশপ্রহরী দিদারুল ইসলাম ওরফে দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে মোঃ কাইয়ুম ও মোহাম্মদ কাউসার মিয়াসহ কয়েকজনের একটি দল এই হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা আলমগীরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও এখনো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন ১০ জানুয়ারি কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ১৫ থেকে ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীরকে দেখে আসেন এবং  পরবর্তিতে ভুক্তভোগীর ফোন দ্বারা থানার কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন। এতে করে আলমগীর আশা করে, বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত শনিবার ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে এগারোটার দিকে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান সাব-ইন্সপেক্টর শফিকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আলমগীরকে ফোন করেন এবং জানান—এই ঘটনায় পুলিশ কিছু করতে পারবে না। আদালতের শরণাপন্ন হতে হতে আদেশ দেন।

এই ফোনালাপের পর আলমগীর ও তার পরিবার আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দেলোয়ার ওরফে দেলু অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রভাব বিস্তার করে পার পেয়ে গেছেন। তারা দাবি করেন,আওয়ামী সরকারের আমলে দেলু ফ্যাসিস্ট  লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মস্থল ও এলাকায় তাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবেই পরিচিত বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভৈরবের শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসার নৈশপ্রহরী হওয়া সত্ত্বেও কোন যাদুকাঠির ছোয়ায় রাতের বেলা তাকে এলাকায় দেখা যায়। এতে আতংক আর বাড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেলু একবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে থানা থেকেই মুক্তি পায়। বর্তমানে সে আবারও এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার করছে এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের একটাই দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

 

কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলারদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারদের ঐক্যবদ্ধ করতে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে উপজেলার বাজরা-তারাকান্দি বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. আতিকুর রহমান জাকির।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহ-সভাপতি: মো. সোহেল রানা (বাজরা-তারাকান্দি), মো. শাকিল মিয়া (দারিয়াকান্দি) ও মো. আজিজুর রহমান আপেল (ছয়সূতী)।
সাংগঠনিক সম্পাদক: মো. সালাহ উদ্দীন (বাজরা)। প্রচার সম্পাদক: মো. মিলন মিয়া (মনোহরপুর), মো. আল-আমিন মিয়া (আগরপুর) ও মো. শরিফ মিয়া (চর কামালপুর)। সহকারী প্রচার সম্পাদক: মো. রতন মিয়া (তারাকান্দি) ও মো. আহসানুল হাবীব আশিক (পৈলানপুর)। সম্মানিত সদস্য: কুলিয়ারচর উপজেলার সকল বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) ও ডিলারবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক থাকবে এবং পেশাগত ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই হবে সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে কুলিয়ারচরের বিক্রয় প্রতিনিধি ও ডিলাররা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং সংগঠনের কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হোসেনপুর থানা পুলিশ-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢেকিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. খাইরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

একই দিনে অপর অভিযানে উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চরকাটিহারী গ্রাম থেকে মোছা. নাছিমা আক্তার নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয় রিটন মেম্বারের বোন বলে জানা গেছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন।

অভিযান পরিচালনা করেন হোসেনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন ও এসআই ঈদুল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ০৭/০৯। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে হোসেনপুর থানা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প উদ্বোধন, পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর উদ্যোগে ‘মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন জেলখানা রোড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, হাসপাতালের পরিচালক রিয়াদ আহমেদ তুষার, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও হয়বতনগর ইউএল কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাব-এর সভাপতি এ কে নাছিম খান এবং কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম-এর সভাপতি নূর মোহাম্মদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

পরে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে প্রকল্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেডিকেল বর্জ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব ও কার্যপ্রণালী তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নুরুন্নাহার আফরিন।

অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা অংশ নেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল বর্জ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে মেডিকেল বর্জ সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে শহরের পরিবেশ দূষণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।