সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

বিএনপি নেতার উপর হামলা

কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ছাত্রদল নেতা কামালের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ লোহাজুরী মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিকালে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচিত সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আলীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা, শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসা ভৈরবের নৈশপ্রহরী দিদারুল ইসলাম ওরফে দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে মোঃ কাইয়ুম ও মোহাম্মদ কাউসার মিয়াসহ কয়েকজনের একটি দল এই হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা আলমগীরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও এখনো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন ১০ জানুয়ারি কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ১৫ থেকে ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীরকে দেখে আসেন এবং  পরবর্তিতে ভুক্তভোগীর ফোন দ্বারা থানার কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন। এতে করে আলমগীর আশা করে, বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত শনিবার ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে এগারোটার দিকে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান সাব-ইন্সপেক্টর শফিকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আলমগীরকে ফোন করেন এবং জানান—এই ঘটনায় পুলিশ কিছু করতে পারবে না। আদালতের শরণাপন্ন হতে হতে আদেশ দেন।

এই ফোনালাপের পর আলমগীর ও তার পরিবার আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দেলোয়ার ওরফে দেলু অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রভাব বিস্তার করে পার পেয়ে গেছেন। তারা দাবি করেন,আওয়ামী সরকারের আমলে দেলু ফ্যাসিস্ট  লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মস্থল ও এলাকায় তাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবেই পরিচিত বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভৈরবের শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসার নৈশপ্রহরী হওয়া সত্ত্বেও কোন যাদুকাঠির ছোয়ায় রাতের বেলা তাকে এলাকায় দেখা যায়। এতে আতংক আর বাড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেলু একবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে থানা থেকেই মুক্তি পায়। বর্তমানে সে আবারও এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার করছে এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের একটাই দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

 

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।