রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২

বিএনপি নেতার উপর হামলা

কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে পুলিশের গড়িমসিতে অর্ধমাসেও হয়নি মামলা, নেই তদন্তের অগ্রগতি

গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ছাত্রদল নেতা কামালের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নস্থ দক্ষিণ লোহাজুরী মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিকালে কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির নির্বাচিত সদস্য আলমগীর হোসেন এবং ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মোঃ আলীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, কুড়েরপাড় গ্রামের বাসিন্দা, শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসা ভৈরবের নৈশপ্রহরী দিদারুল ইসলাম ওরফে দেলোয়ার হোসেন দেলুর নেতৃত্বে মোঃ কাইয়ুম ও মোহাম্মদ কাউসার মিয়াসহ কয়েকজনের একটি দল এই হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা আলমগীরকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও এখনো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন ১০ জানুয়ারি কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ১৫ থেকে ১৬ দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে আহত আলমগীরকে দেখে আসেন এবং  পরবর্তিতে ভুক্তভোগীর ফোন দ্বারা থানার কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেন। এতে করে আলমগীর আশা করে, বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব পাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

তবে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত শনিবার ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে এগারোটার দিকে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান সাব-ইন্সপেক্টর শফিকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আলমগীরকে ফোন করেন এবং জানান—এই ঘটনায় পুলিশ কিছু করতে পারবে না। আদালতের শরণাপন্ন হতে হতে আদেশ দেন।

এই ফোনালাপের পর আলমগীর ও তার পরিবার আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দেলোয়ার ওরফে দেলু অতীতেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রভাব বিস্তার করে পার পেয়ে গেছেন। তারা দাবি করেন,আওয়ামী সরকারের আমলে দেলু ফ্যাসিস্ট  লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মস্থল ও এলাকায় তাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবেই পরিচিত বলে জানা যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভৈরবের শম্ভূপুর দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাযিল মাদরাসার নৈশপ্রহরী হওয়া সত্ত্বেও কোন যাদুকাঠির ছোয়ায় রাতের বেলা তাকে এলাকায় দেখা যায়। এতে আতংক আর বাড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেলু একবার গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে থানা থেকেই মুক্তি পায়। বর্তমানে সে আবারও এলাকায় ফিরে এসে প্রভাব বিস্তার করছে এবং পেশিশক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয়দের একটাই দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

 

পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া থানা এবং পৌরসদর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোভার স্কাউটের সদস্যরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাজিতপুরে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সমন্বিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় মশা নিধন মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটিয়ে মশা দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম, বাজিতপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বাবুল মিয়া, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সোহাগ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজাহান সিরাজসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে কর্মকর্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

“নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার ব্রিজসংলগ্ন শাপলা চত্বরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান এবং পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় শহরের বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগাম সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মায় উল্লেখ করে তারা বাসাবাড়ি, ছাদ, বাগান ও আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে না রাখার পরামর্শ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, প্রতি শনিবার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পৌর প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, এডিস মশা মূলত দিনের বেলাতেই বেশি কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহারসহ ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। কারও জ্বর দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়। জ্বর কমে গেলেও ডেঙ্গুর জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাড়ি না ফেরার পরামর্শ দেন তারা।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভা জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।