বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

একজন প্রার্থী আছেন, যিনি দিনের শুরুতেই আমার নাম নেন- মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
একজন প্রার্থী আছেন, যিনি দিনের শুরুতেই আমার নাম নেন- মির্জা আব্বাস

নির্বাচনী মাঠে নতুনদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, তিনি আশা করেন—প্রার্থীরা আইন মেনে নির্বাচন করবেন এবং কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করে কথা বলবেন না।

তিনি বলেন, “মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে আল্লাহর নাম নেয়। অথচ আমার এখানে এমন একজন প্রার্থী আছেন, যিনি দিনের শুরুতেই আমার নাম নেন।” অতীতে তিনি অনেক শক্ত ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে নির্বাচন করেছেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “কিন্তু তখন আমরা কেউ কারও বিরুদ্ধে বিষোদগার করিনি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে সারাদিন শুধু তাঁর নামেই বিষোদগার করা হচ্ছে। তাঁর সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় কথা বলে তাঁকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চলছে। “ওরা বোঝে না—আমি জীবনে বহু নির্বাচন মোকাবিলা করে এসেছি। আবারও বলছি, ওরা বাচ্চা ছেলে—আমার সন্তানের মতো,” বলেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

এরপর তিনি পুরানা পল্টনের বধির স্কুলে মূক ও বধিরদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিকেলে শান্তিনগর বাজার ও পীর সাহেবের গলিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি চামেলীবাগ গ্রীন পিস অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।” নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ সৃষ্টি হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারিতে তার প্রতিফলন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে সামনে কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না।” কিছু প্রার্থীর কার্যকলাপ ও চালচলন দেখে মনে হচ্ছে তারা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, “বাস্তবতা অনুভব করতে হবে। নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী কিছু লোককে জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ ও দোয়া-ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গাইটাল পুকুরপাড়ে ভূঁইয়া প্লাজার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি সেমি-পাকা মার্কেটের মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স এবং বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামক দু’টি দোকানে আগুন লাগে। এতে দু’টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেলসহ দোকান দু’টির প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এশার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও আলোচনা চলাকালীন সময়ে রাস্তায় চলাচলকারী স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বন্ধ থাকা দোকানের ভেতরে আগুনের উপস্থিতি টের পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা দোকান মালিক ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খালিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাকে স্টেশনে ভেজা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি জানান, ঘটনার সময় দমকল বাহিনীর সদস্যরা নামাজ শেষে নামাজের পোশাকেই ছিলেন। গাইটাল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দুটি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদির জানান, তার দোকানে একটি নতুন ও একটি পুরাতন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার প্রতিবেশী বন্ধু গোলাপের একটি মোটরসাইকেলও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। দোকানের হিসাব সংক্রান্ত কিছু খাতাও আংশিকভাবে পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের মালিক শরিফুল ইসলাম রুবেল মুঠোফোনে জানান, তার দোকানে থাকা রং, স্যানিটারি পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় তার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বললেও বাস্তবে মালিকপক্ষ, এলাকাবাসী কিংবা দমকল বাহিনীর কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। জানা যায়, দোকানে কয়েকটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও ড্রাম ভর্তি টারপিন থাকলেও সেগুলো অক্ষত ছিল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বরকতময় এই রজনীতে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সত্ত্বেও জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও পাকা মার্কেট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় নারী–পুরুষসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদককারবারি, সন্দেহভাজন আসামি এবং পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই দিন ভোররাত ৩টার দিকে পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকার ওমর আলীর মেয়ে মনিষা (১৮), একই এলাকার কালা মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম (৬০), মৃত ইসমত মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৫৪), মৃত আনার মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া (২০), পণ্ডিত মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৩০), মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে মো. রবিন মিয়া (৫২), রিপন মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৩০), মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৩) এবং উত্তরপাড়া এলাকার মুছা আলমের ছেলে মাসুম আলম (৪০)।

ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরবে যৌথ অভিযানে ৪০ জনের অধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং ও চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টায় ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারী–পুরুষসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে পুকুরপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে দেড়শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুম আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, ভৈরবে বেড়ে যাওয়া চুরি ও ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।