বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

এক রাতেই শেষ স্বপ্নের খামার, তাড়াইলে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্বান্ত খামারী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এক রাতেই শেষ স্বপ্নের খামার, তাড়াইলে অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্বান্ত খামারী

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোয়ালঘরসহ মূল্যবান গবাদিপশু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারি আলম ভূঁইয়া (৪০)। এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে তার বহু কষ্টে গড়া স্বপ্নের খামার।

ক্ষতিগ্রস্ত আলম ভূঁইয়া তাড়াইল উপজেলার সাচাইল সদর ইউনিয়নের পশ্চিমের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নূরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আলম ভূঁইয়া জানান, প্রতিদিনের মতো রাত ১১টার দিকে গরুগুলোর পরিচর্যা শেষ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে গেলে বাইরে বের হয়ে দেখেন, গোয়ালঘরটি দাউদাউ করে জ্বলছে।

তিনি আরও জানান, সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় ততক্ষণে গোয়ালঘর এবং ভেতরে থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে পিজিয়াম জাতের দুটি গাভি পুড়ে মারা যায়। এর মধ্যে একটি গাভি প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি দুধ দিত এবং অপরটি ছিল ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গরু দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এ ছাড়া কয়েক মাস আগে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত গোয়ালঘরটি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

গোয়ালঘরের পাশে রাখা কিছুদিন আগে ২০ হাজার টাকায় কেনা খড়ের গাদাও আগুনে পুড়ে যায়। আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এই খামারটি গড়ে তুলেছিলেন। অনেক কষ্ট করে ও ধারদেনা করে খামার দাঁড় করালেও এখন গরু নেই, ঘর নেই। কিস্তি কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তাড়াইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ আতিকুল আলম জানান, খবর পেয়ে রাত ২টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও আলম ভূঁইয়ার পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তার সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারটি আগেই আর্থিক সংকটে ছিল। এ ঘটনায় পরিবারটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ ও দোয়া-ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গাইটাল পুকুরপাড়ে ভূঁইয়া প্লাজার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি সেমি-পাকা মার্কেটের মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স এবং বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামক দু’টি দোকানে আগুন লাগে। এতে দু’টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেলসহ দোকান দু’টির প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এশার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও আলোচনা চলাকালীন সময়ে রাস্তায় চলাচলকারী স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বন্ধ থাকা দোকানের ভেতরে আগুনের উপস্থিতি টের পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা দোকান মালিক ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খালিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাকে স্টেশনে ভেজা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি জানান, ঘটনার সময় দমকল বাহিনীর সদস্যরা নামাজ শেষে নামাজের পোশাকেই ছিলেন। গাইটাল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দুটি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদির জানান, তার দোকানে একটি নতুন ও একটি পুরাতন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার প্রতিবেশী বন্ধু গোলাপের একটি মোটরসাইকেলও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। দোকানের হিসাব সংক্রান্ত কিছু খাতাও আংশিকভাবে পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের মালিক শরিফুল ইসলাম রুবেল মুঠোফোনে জানান, তার দোকানে থাকা রং, স্যানিটারি পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় তার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বললেও বাস্তবে মালিকপক্ষ, এলাকাবাসী কিংবা দমকল বাহিনীর কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। জানা যায়, দোকানে কয়েকটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও ড্রাম ভর্তি টারপিন থাকলেও সেগুলো অক্ষত ছিল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বরকতময় এই রজনীতে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সত্ত্বেও জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও পাকা মার্কেট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় নারী–পুরুষসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদককারবারি, সন্দেহভাজন আসামি এবং পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই দিন ভোররাত ৩টার দিকে পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকার ওমর আলীর মেয়ে মনিষা (১৮), একই এলাকার কালা মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম (৬০), মৃত ইসমত মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৫৪), মৃত আনার মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া (২০), পণ্ডিত মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৩০), মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে মো. রবিন মিয়া (৫২), রিপন মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৩০), মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৩) এবং উত্তরপাড়া এলাকার মুছা আলমের ছেলে মাসুম আলম (৪০)।

ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরবে যৌথ অভিযানে ৪০ জনের অধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং ও চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টায় ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারী–পুরুষসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে পুকুরপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে দেড়শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুম আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, ভৈরবে বেড়ে যাওয়া চুরি ও ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।