রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩ ১৪৩২

নিহত জামায়েত কর্মীর পরিবারের খবর নিতে নিকলীর হাওড়ে ডা. শফিকুর রহমান

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিহত জামায়েত কর্মীর পরিবারের খবর নিতে নিকলীর হাওড়ে ডা. শফিকুর রহমান

কিশোরগঞ্জের নিকলীর প্রত্যন্ত হাওড় জনপদ ছাতিরচরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত এক কর্মীর কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে হঠাৎ ছুটে এলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাওড়ে এই প্রথম কোনো বড় নেতার আগমনে স্থানীয়দের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। যৌথবাহিনীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ডা. শফিকুর রহমানের কাছাকাছি চলে যান সাধারণ মানুষ, তাকে এক নজর দেখতে।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী উপজেলার কলেজ মাঠে জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তৃতা শেষে নিকলী উপজেলার ছাতিরচর গ্রামের আব্দুস সালাম (৬৫) নামের এক জামায়েত কর্মী বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উজান চর এলাকায় তাকে একটি বাস চাপা দেয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে আব্দুস সালাম মারা যান বলে জানা যায়।

আজ রোববার দুপুর ১২টায় ডা. শফিকুর রহমান ছাতিরচরে আসার খবর পেয়ে স্থানীয় ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ হাজার-হাজার সাধারণ মানুষের ঢল নামে হাওড়ের নদীপাড়ে। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের সফরসঙ্গী ছিলেন নিকলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা আমির মো. রমজান আলী, জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ডা. সামিউল হক ফারুকী, গাজীপুর থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাউদ্দীন আইয়ুবীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

ডা. শফিকুর রহমান নিহতের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন এবং ছাতিরচর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে কবর জিয়ারত করে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আয়োজনে এক পথসভায় তিনি বক্তৃতা করেন।

এর আগে, জামায়াতে ইসলামীর এক নির্বাচনী জনসভায় স্ট্রোকজনিত কারণে জেলার ইটনা উপজেলায় নিহত এক জামায়েত কর্মীর কবর জিয়ারতসহ তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেন ডা. শফিকুর রহমান ও তার সঙ্গীয় নেতাকর্মীরা।

জনগণ আমাকে এমপি নির্বাচন করেছে, আমি কারো পকেটের হতে চাই না

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
জনগণ আমাকে এমপি নির্বাচন করেছে, আমি কারো পকেটের হতে চাই না

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেছেন, জনগণ আমাকে এমপি নির্বাচন করেছে, আমি কারো পকেটের হতে চাই না। আপনারা কেউ দলে নাম ভাঙিয়ে কোনো ধরনের অপকর্মে জড়াবেন না। কেউ এর দায় নেবে না, এমনকি তারেক রহমান সাহেবও এর দায় নেবেন না।

শনিবার রাতে কটিয়াদী স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, আমরা যে ঐক্য করেছি, সেই ঐক্যে কেউ ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলে তার দায় সে নিজেই নেবে। সাবধান করে দিচ্ছি—কথা থাকলে সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলবেন। কোনো ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ আমি টলারেট করবো না। আমার নেতা তারেক রহমানও এটা টলারেট করবেন না।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এরপর যদি কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়, আমি কিন্তু তা বরদাশত করবো না। জনগণ আমাকে এমপি বানিয়েছে কারো পকেটে ঢোকার জন্য নয়।

অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, বিগত কিছুদিন একটি পক্ষ আমাদের দলের নামে চাঁদাবাজির অপপ্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু দলের বড় কোনো নেতার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। আমরা অপপ্রচারের শিকার হয়েছিলাম। আপনারা কেউ এমন কাজ করবেন না, যাতে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

অপকর্মে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিকল্প ব্যবসার কথা ভাবুন। আমি আপনাদের কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবো। তবে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যের কারণেই আমি নির্বাচিত হয়েছি। এই ঐক্য যারা নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ব্যবস্থা নেবো।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আ. ছোবান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কৃষিবিদ গোলাম ফারুক চাষি, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জাইদুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজিজুল হক শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সেলিমসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

হোসেনপুরে আসামি নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা: কনস্টেবলের মৃত্যু

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে আসামি নিয়ে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনা: কনস্টেবলের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হোসেনপুর থানার কনস্টেবল নজরুল ইসলাম (৫০) মারা গেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পদোরগাতি এলাকায় পুলিশের বহনকারী একটি সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কনস্টেবল নজরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কনস্টেবল নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম।

গরীবের হাতের ঘামেই আমি মুখ মুছি- ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
গরীবের হাতের ঘামেই আমি মুখ মুছি- ডা. শফিকুর রহমান

কিছু মানুষ বিশেষ বিশেষ সময়ে গরীব মানুষের সঙ্গে হাত মেলায়, কিন্তু গরীব মানুষগুলো একটু আড়াল হলেই রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে হাত মুছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “আর আমি সেই গরীব মানুষের হাতের ঘাম এনে আমার মুখ মুছি।”

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাক এবং নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় জামায়াতে ইসলামের দুই নিহত কর্মীর পরিবারের খোঁজ নিতে ও কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম নামে এক কর্মী নিহত হন। এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় যাওয়ার পথে স্ট্রোক করে শাহ আলম নামে জামায়াতের এক সমর্থক মারা যান।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “১৯ জুলাই আমার চলে যাওয়ার কথা ছিল। এভাবে বক্তব্য দিতে দিতে অনেক মানুষ মারা যায়। এরপর তাদের গোসল করানো হয়, সাদা কাপড়ে মোড়ানো হয়। কিন্তু আল্লাহ এখনো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।”

এ সময় তিনি নিহত দুই পরিবারের সকল দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যাপক রমজান আলীসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।