কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি এলাকার সাঈদ হাসান ও তার সঙ্গী দলের প্রতারণা এবং মামলার বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদির রায়পুরা থানার চরসুবুদ্ধি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী সুমীর বাবা আয়নলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে আয়নল ও ফাতেমা দাবি করেন, সুমীর সঙ্গে চৌধুরী হাঁটির আ: রাজ্জাকের ছেলে সাঈদ হাসান বিয়ের প্রলোভনে ঢাকার টঙ্গী এলাকার মোল্লাবাড়িতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে এবং শারীরিক সম্পর্ক করে। বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে সাঈদ খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর ও ছবি দেখিয়ে বলেন, বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কিছু দিন পর সুমী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। বিদেশ থেকে সুমীর কাছ থেকে সাঈদ হাসান জমি কিনার কথা বলে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ১৯ জুলাই ২০২৫ সুমী দেশে ফিরে আসলে সাঈদ হাসান পিতার অসুস্থতার কথা বলে নরসিংদীর আরসিনগর এলাকায় তার ভাই তাজলের বাসা থেকে আরও ৩ লাখ টাকা নেন। সেইসাথে রাতে তাজলের বাসায় শারীরিক সম্পর্কও করেন। পরের দিন সুমী বিয়ের কাগজপত্র চাইলে সাঈদ হাসান সুকৌশলে সুমীর নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) নিয়ে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি মুকুল মেম্বারের বাড়িতে গ্রামীণ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও অপকর্ম প্রকাশ হলে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সুমীর পরিবারকে হামলা করা হয়। স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় আক্রমণের শিকার হন সাংবাদিক রিতুর মা মিনারা।
এসব ঘটনায় নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মো: সাঈদ হাসান, মো: তাজল ইসলাম, রিমা আক্তার ও আ: রাজ্জাককে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২১১/২০২৫, ধারাসমূহ: ৯(১), ৩৮০, ৪২০, ৫০৬। সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় তাজল, সাঈদ, আ: রাজ্জাক ও শিরিনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয় (নম্বর ১৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ধারাসমূহ: ১৪৩, ৩২৩, ৩৫৪, ৩৭৯, ৫০৬)।
মামলার চাপ থেকে বাঁচতে সাঈদ হাসানের বোন তাসলিমা বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের কপি পাঠায় এবং ওমান থেকে তাসলিমার জামাই জহিরুল মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। উল্লেখ্য, সাঈদের বোন শিরিন মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামী রহিম মিয়া ও পরিবারের লোকজনকে জেল পাঠান। পরবর্তীতে রহিম পরিবার খালাস পায় (মামলা নম্বর ১৫(৩)১৪)।
বর্তমানে সুমী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা জানান, সাঈদ পরিবারের সবাই মামলাবাজ ও ভয়ংকর ব্যক্তি; তারা নিয়মিত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সত্য উদঘাটন ও সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন।