মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ২০ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশের হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশের হেফাজতে

কিশোরগঞ্জ শহরের আলোরমেলা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১ মার্চ) গভীর রাতে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ওই গৃহবধূর নাম উম্মে সিজ্জিল ইফতি (২২)। তিনি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কিচমতকচুরি গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইফতি স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ শহরের আলোরমেলায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী মুমতাজ মুকুল নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি কলেজের প্রভাষক। তিনি মুশুল্লি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও। মুকুলের দুই স্ত্রী। বড় স্ত্রী তাদের তিন সন্তান নিয়ে শহরের গাইটাল এলাকায় জনতা রোডের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তিনি নান্দাইল উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানান, ছোট স্ত্রী ইফতির সঙ্গেই প্রভাষক মুকুল বেশি থাকতেন। তবে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রবিবার রাতে স্থানীয়রা তাদের ঝগড়া শুনেছেন। গভীর রাতে প্রতিবেশীরা জানালায় দড়িতে ঝুলতে দেখেন ইফতিকে। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ দরজা ভেঙে বাসা থেকে ইফতির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় তাঁর স্বামী বাসায় ছিলেন না।

সোমবার (২ মার্চ) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইফতির স্বামী মুকুলকে পুলিশ তাদের জিম্মায় নিয়েছে। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহের কারণে ইফতি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে তারা সব বিষয় মাথায় রেখে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ইফতির স্বামী প্রভাষক মুকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।

চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রামে সোমবার (২ মার্চ) ব্যবসায়ী খোকনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাজী নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. জুয়েল মিয়া। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চন্দ্রাবতী’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সোমবার (২ মার্চ) ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ‘চন্দ্রাবতী’র সভাপতি মিশকাতুল আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম সাকির স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে নতুন কমিটি অনুমোদিত হয়।

ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত তনয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চিন্ময় রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হামীম আহমেদ, সানজিদা ঐশী, তাসনিয়া অর্ণা ও কানিজ ফাতেমা সেতু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আরমান ইমন, হৃদয় রায়, মেহরাব হোসেন মৃদুল, রিফাইয়াত সুলতানা জেমি, সাদিয়া আক্তার উর্মি ও আতাহারুল ইসলাম মাহী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজিদ ইউসুফ।

সংগঠন সূত্র জানায়, ‘চন্দ্রাবতী’ দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, ইফতার মাহফিল, BBQ, শিক্ষা বৃত্তি, সেমিনার ও শিক্ষাসফর আয়োজনের মাধ্যমে সংযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে আসছে। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই গুরুদয়াল কলেজ ও আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত তনয় বলেন, “দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি আমানত। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই আমানত রক্ষায় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশী। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় রায় বলেন, “সংগঠনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা এবং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘চন্দ্রাবতী’ আগামী এক বছরের জন্য গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত শিশু আশরাফুল দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছু সময় পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে ঘরে এসে জানায়, দোলনায় তার ছোট ভাই নেই। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।