সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

বাজিতপুরে নদীর ওপর বহুতল ভবনের পাইলিং: পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে নদীর ওপর বহুতল ভবনের পাইলিং: পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া বাজার সংলগ্ন কাদাঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত গুরুই–নিকলী সড়কের ব্রিজের পাশ ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে পাইলিং কাজ চলায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর ওপর এ ধরনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জানা যায়, হিলচিয়া মৌজার ৭৮৩ নম্বর খতিয়ানের ৯৬২ নম্বর দাগের মৃত জগতীশ চন্দ্র সাহার ছেলে ঝুন্টু লাল সাহার ৯১ শতাংশ জমিতে নদী ও ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে সাততলা ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে পাইলিং কার্যক্রম চলছে। এলাকাটি হিলচিয়া বাজার থেকে নিকলী–বাজিতপুর সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষের চলাচল রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ অভিযোগ করে বলেন, “নদীর ওপর শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা না করেই ব্রিজের গা ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাইলিংয়ের কারণে ভবিষ্যতে ব্রিজের স্থায়িত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।”

একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ড্রাইভার রহমত আলী। তিনি বলেন, “নদীর ওপর এভাবে ভবন নির্মাণের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক সময় হুমকির মুখেও পড়তে হয়। তাই অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।”

গুরুই ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে এই নদীটি তিনটি উপজেলার পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ। তিনি বলেন, “কটিয়াদী, বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ভললার বিলের পানি কাদাঙ্গী নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঘোড়াউত্রা নদীতে গিয়ে মিশে। বর্ষা মৌসুমে শত শত নৌকা ও জেলেরা মাছ নিয়ে হিলচিয়া মাছের আড়তে আসে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে হিলচিয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সবুজ মিয়া বলেন, “বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং রেকর্ডপত্রে মালিকানার তথ্যও রয়েছে। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পাইলিংয়ের ফলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল হক নাহিদ জানান, “আমার পরিষদ থেকে এ ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে জমির মালিক ঝুন্টু লাল সাহা বলেন, “জমিটি আমার নিজস্ব মালিকানাধীন। এখনো শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আমি মূলত এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। যদি এলাকাবাসী এতে আপত্তি করে, তাহলে আমি কাজ বন্ধ করে দেব।”

তিনি আরও বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে মাটির সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করার পর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে নিয়ম মেনে শ্রেণি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। কোনোভাবেই ব্রিজ বা পরিবেশের ক্ষতি করার মতো কিছু করা হচ্ছে না। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা থাকলে আমরা তা মেনে চলব।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “বর্তমান সরকার নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। জমির মালিকের দাবি অনুযায়ী এটি তার নিজস্ব জমি হলেও বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে মাপজোক ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদীর ওপর বা গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), যথাযথ শ্রেণি পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে সড়ক যোগাযোগ, নৌ-চলাচল ও জননিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

হোসেনপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় ফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে মজুদ পরীক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় খোলা বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জানা গেছে, অভিযানকালে উপজেলার বিভিন্ন ফুয়েলিং স্টেশন পরিদর্শন করে তেলের মজুদ ও বিক্রয় পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্টদের নিয়ম-নীতি মেনে তেল বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে খোলা বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগে একটি রেন্ট-এ-কার গাড়ির চালককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদ বলেন, খোলা বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি রোধ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে ফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

অষ্টগ্রাম হাওরে গোয়ালঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রাম হাওরে গোয়ালঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বড় হাওরের একটি গোয়ালঘর থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা—এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ।

অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রানা মিয়া (২০) কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার হুমাইপুর (আনোয়ারপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং আলফাজ মিয়ার ছেলে। তিনি গত কার্তিক মাস থেকে মৌসুমি চুক্তিতে অষ্টগ্রাম উপজেলার করগাঁও মৌজার পাটাচাপড়া হাওরে নওশাদ আহম্মেদ ফারুকী মিয়ার মহিষ দেখাশোনার কাজ করতেন।

নিহতের বাবা মো. আলফাজ মিয়া জানান, তিনি কুমিল্লা শহরে ব্যবসা করেন। সোমবার ভোরে মোবাইল ফোনে খবর পান, তার ছেলে রানা মিয়া হাওরের একটি গোয়ালঘরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

রানা মিয়ার সঙ্গে একই স্থানে থাকা শ্রমিক তোতা মিয়া (৩১) ও আক্তার হোসেন (৩৬) জানান, রোববার (৮ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে সবাই রাতের খাবার খেয়ে যার যার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। রাত প্রায় ১টার দিকে তোতা মিয়া ঘুম থেকে উঠে রানা মিয়াকে বিছানায় না দেখে আক্তার হোসেনকে ডাকেন। পরে টর্চলাইট দিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গোয়ালঘরের ভেতরে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।

নিহতের বাবা আলফাজ মিয়া পুলিশের কাছে দেওয়া অপমৃত্যুর আবেদনে উল্লেখ করেন, ধারণা করা হচ্ছে রাত সাড়ে আটটা থেকে রাত ১টার মধ্যে কোনো এক সময় রানা মিয়া সবার অগোচরে গোয়ালঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। আবার কেউ তাকে হত্যা করেও ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তিনি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কুলিয়ারচরে পরিবেশ দূষণের দায়ে খামার মালিককে জরিমানা, অনাদায়ে কারাদণ্ড

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পরিবেশ দূষণের দায়ে খামার মালিককে জরিমানা, অনাদায়ে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরিবেশ দূষণের দায়ে এক খামার মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী তিন দিনের মধ্যে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য খামার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট খামার থেকে নির্গত বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছিল এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে খামার মালিককে এ দণ্ড প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, জনস্বার্থে পরিবেশ দূষণ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খামার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে পরিবেশগত সমস্যা নিরসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।