সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

সৌদি সরকারের উপহার খেজুর বাজিতপুরে ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৌদি সরকারের উপহার খেজুর বাজিতপুরে ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ

 রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ-এর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার খেজুর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সৌদি সরকারের এই উপহার কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য মোট ২৮৭ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে বাজিতপুর উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৬ কার্টুন খেজুর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এসব খেজুর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। ইতোমধ্যে উপজেলার ২৪টি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খেজুর বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে খেজুর বিতরণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— মাহাজারুল উলুম জ্ঞানপুর, নুরুল উলুম পৈলানপুর, মিফতাহুল উলুম দিলালপুর, এমদাদিয়া মাদ্রাসা, দারুল উলুম নুমানিয়া, দারুস সালাম দিঘীরপাড়, উদাতি কান্দি দিলালপুর, বাগপাড়া দিলালপুর, চারবাড়ি পৌরসভা সিরাজিয়া মাদ্রাসা, পিরিজপুর বাজিতপুর বাজার মাদ্রাসা, আলিমুদ্দিন মহিলা মাদ্রাসা, তাজবিদুল মাদ্রাসা পাটুলী, বাজিতপুর ইসলামিয়া কমপ্লেক্স, মিত্রাদুল উলুম হুমাইপুর, উত্তর সরারচর মারকাজুল উলুম মাদ্রাসা, রিয়াজুল জান্নাত সরারচর ইসলামিয়া এতিমখানাসহ মোট ২৪টি প্রতিষ্ঠান।

খেজুর বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার আবু বক্করসহ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদের শিক্ষকবৃন্দ। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা খেজুরের কার্টুন গ্রহণ করেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য সৌদি সরকারের এ উপহার বিশেষ সহায়ক হবে।

জেলা ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ: শরিফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
জেলা ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ: শরিফুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

কিশোরগঞ্জে নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটিকে ঘিরে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।

সোমবার (৪ মে ২০২৬) দুপুরে ‘সর্বস্তরের মজলুম ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ’-এর ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গৌরাঙ্গবাজার মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণার পর অস্বাভাবিকভাবে তা স্থগিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হয়। তাদের দাবি, পূর্বে ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে এবং বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বর্তমান কমিটিতে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তারা রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরের নেতৃত্বে পূর্বের আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে নতুন কমিটিকে “সিন্ডিকেটনির্ভর” আখ্যা দেন এবং তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বর্তমান কমিটি বাতিল করে রেদোয়ান রহমান ওয়াকিউরকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

এ সময় শরিফুল আলম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়।

করিমগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত: মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে কারাদণ্ড

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত: মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যক্তিকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

সোমবার (৪ মে) পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় গাঁজা সেবন ও বিক্রির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির। অভিযানে করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমরানুল কবির এবং গুজাদিয়া আব্দুল হেকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ ফকির উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় করিমগঞ্জ থানার একটি চৌকস পুলিশ দল আদালত পরিচালনা ও রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা অপরিহার্য।”

তিনি আরও জানান, মাদক, মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারি সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, মাদকবিরোধী এই অভিযানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা লক্ষ্য করা গেছে।

সরারচর বাজারে ‘হটস্পট’ অভিযান: নারীর কাছে ৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
সরারচর বাজারে ‘হটস্পট’ অভিযান: নারীর কাছে ৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের সরারচর বাজারে মাদকবিরোধী বিশেষ ‘হটস্পট’ অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবাসহ মোছা. রুমা আক্তার (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে ফয়সাল নামে এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) রাত ৯টার দিকে সরারচর বাজারের ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় বাজিতপুর থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই মো. আসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত রুমা আক্তার মৃত মতি মিয়ার মেয়ে ও মনির মিয়ার স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে। আটক ফয়সালের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরারচর বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি হয়ে আসছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ যুবসমাজ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শ্যামল দত্ত জানান, প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে রুমা আক্তার ও তার সহযোগী ফয়সালকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারায় মামলা দায়ের করে কিশোরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরারচর বাজারসহ উপজেলার যেখানেই মাদকের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতা পেলে মাদক নির্মূলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।