কুলিয়ারচরে জনবসতির মধ্যে মুরগির বিষ্ঠার দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কাচারিপাড়া এলাকায় জনবসতির মধ্যেই পোলট্রি (লেয়ার মুরগি) খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে তীব্র পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা উন্মুক্ত স্থানে ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় দুর্গন্ধের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেকের পক্ষে নিজ বাড়িতে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া, খোলা স্থানে বর্জ্য জমে থাকার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি এসব বর্জ্যের সংস্পর্শে এসে পুনরায় বাড়িতে ফিরে জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল (পিতা: মোহাম্মদ মুক্তার উদ্দিন) বলেন, “গত আট বছর ধরে আমি জনমানবহীন এলাকায় এসব বর্জ্য ফেলতাম। সেখানে বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বর্তমানে এখানে ফেলছি।”
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনবসতির মধ্যে এভাবে পোলট্রি বর্জ্য ফেলা কতটা আইনসম্মত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হয় এবং বাসিন্দারা সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলট্রি বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।







