সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ ১৪৩২

ঈদের আনন্দে মুখর হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঈদের আনন্দে মুখর হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৪-এ কিশোরগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়া হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘ঈদ পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণিল সাজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা রত্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক প্রীতি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো রঙিন বেলুন ও নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদের আনন্দকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা রত্না বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতেই এই ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষার্থীরা যখন হাসিমুখে একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ পিটিআইয়ের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট মুহাম্মদ জিয়াউল হাসান এবং মাহফুজুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম ও ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্থানীয় অভিভাবকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৪’-এ কিশোরগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মানসম্মত শিক্ষা প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুম পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ঝরে পড়া রোধ এবং ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি এ স্বীকৃতি অর্জন করে।

কুলিয়ারচরে জনবসতির মধ্যে মুরগির বিষ্ঠার দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে জনবসতির মধ্যে মুরগির বিষ্ঠার দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

 কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কাচারিপাড়া এলাকায় জনবসতির মধ্যেই পোলট্রি (লেয়ার মুরগি) খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে তীব্র পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা উন্মুক্ত স্থানে ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় দুর্গন্ধের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেকের পক্ষে নিজ বাড়িতে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়া, খোলা স্থানে বর্জ্য জমে থাকার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি এসব বর্জ্যের সংস্পর্শে এসে পুনরায় বাড়িতে ফিরে জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল (পিতা: মোহাম্মদ মুক্তার উদ্দিন) বলেন, “গত আট বছর ধরে আমি জনমানবহীন এলাকায় এসব বর্জ্য ফেলতাম। সেখানে বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বর্তমানে এখানে ফেলছি।”

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনবসতির মধ্যে এভাবে পোলট্রি বর্জ্য ফেলা কতটা আইনসম্মত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হয় এবং বাসিন্দারা সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলট্রি বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বাজিতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রিতে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রিতে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) উপজেলার সরারচর বাজারের সিএনবি রোড (তালগাছতলা) এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ‘কাউসার অটোস’ নামক প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. কাউছার আহমেদ খানকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তিনি উপজেলার ‘মেসার্স দিদার অ্যান্ড প্রিন্স ফিলিং স্টেশন’ পরিদর্শন করেন। এ সময় ফিলিং স্টেশনটিতে গ্রাহকদের সঠিক মাপে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে কি না এবং তেলের মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না—তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা পাম্প কর্তৃপক্ষকে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরিমাপে কোনো ধরনের কারচুপি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।