মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ১৪৩২

কুলিয়ারচরে ফসলি জমির মাটি কাটার দায়ে ৫ জনকে কারাদণ্ড, ভেকু ও ট্রাক্টর জব্দ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে ফসলি জমির মাটি কাটার দায়ে ৫ জনকে কারাদণ্ড, ভেকু ও ট্রাক্টর জব্দ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফসলি জমির মাটি অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ জনকে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (এস্কেভেটর) ও চারটি অনুমোদনবিহীন ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের নাপিতেরচর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ৫ জনকে দণ্ড দেওয়া হয় এবং একজনকে প্রমাণ না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— নরসিংদীর বেলাব উপজেলার চরবেলাব গ্রামের জীবন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম আকাশ (১৯), এমদাদ মিয়ার ছেলে সম্রাট (১৯), গাংকুলপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে জামান ভূঁইয়া (৩৫), ইকবাল হোসেনের ছেলে রিপন (২৫) এবং পারউজিলা গ্রামের আব্দুল জায়েদ আলীর ছেলে মো. কামাল হোসেন (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানের জমি ও সবজি আবাদি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এসব মাটি ইটভাটা ‘দীপা এন্টারপ্রাইজ’-এ সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল। তবে অভিযানে শ্রমিকরা আটক হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেফতাহুল হাসান জানান, কৃষিজমি রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যালয়ে হাইব্রিড ক্লাসের সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন ও আংশিক সশরীরে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং বাকি তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়া হবে।

এর আগে একই দিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুলপর্যায়ে অনলাইন ও সশরীর ক্লাসের সমন্বয়ে পাঠদান চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে দ্রুতই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইন ক্লাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয়েও আলোকপাত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচির দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বছরের শেষ নাগাদ পাঠদান ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও পাবলিক পরীক্ষাগুলো পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই সমস্যাগুলো নিরসনে শিক্ষা ব্যবস্থায় সময়োপযোগী সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ঢাকাসহ দেশের ১৪ জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ

দেশের ১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন করবেন। তারা জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা প্রাপ্য হবেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা হলেন—ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক, ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, জামালপুরে মো. সিরাজুল হক, মানিকগঞ্জে জামিলুর রশিদ খান, নরসিংদীতে তোফাজ্জল হোসেন, হবিগঞ্জে আহমেদ আলী এবং চাঁদপুরে এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

জাকির হোসাইন রাজু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
ফুলপুরে ‘সহজ কার্ড’ প্রতারণা: ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ‘সহজ কার্ড’ বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করায় এক ডিলারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) বালিয়া সুলতানের মোড় এলাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডিলার মোঃ সারোয়ার (পিতা: মৃত আবুল কালাম) ১০০ টাকার বিনিময়ে স্থানীয়দের কাছে প্রতিটি ‘সহজ কার্ড’ বিক্রি করছিলেন। কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাহককে ১,০০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে গ্রাহকদের হাতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের পণ্য দেওয়া হতো।

ঘটনাটি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তদন্তে প্রতারণার অভিযোগটি হাতেনাতে প্রমাণিত হয়। এ সময় অভিযুক্ত সারোয়ারকে আটক করা হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযুক্ত সারোয়ার শেরপুরের রামপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহ করার দায়ে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জব্দকৃত অবৈধ পণ্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জনমনে স্বস্তির বাতাস ফিরে এসেছে।