শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২ ১৪৩২

আদালতের আদেশ অমান্য করে অষ্টগ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

আলী রহমান খান প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আদালতের আদেশ অমান্য করে অষ্টগ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা, ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুধীর দাস (৫০) অভিযোগ করেন, একই এলাকার আবদুর রহমানের ছেলে মিজান (৪৩), দুলাল (৫৫) ও কাউসার (৩৫) পরিকল্পিতভাবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। তিনি জানান, ২০০৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৫৯ নম্বর এওয়াজ বদল দলিলের মাধ্যমে কাস্তুল মৌজার এসএ ২৯০ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমিটি তিনি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমিটি তিনি উপজেলার মসজিদজাম জমিদার পরিবারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় কিনেছেন বলেও দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় আমরা ৬-৭টি হিন্দু পরিবার বসবাস করি। এ ঘটনার পর আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তরা রাতের অন্ধকারে টিনশেড দিয়ে বাউন্ডারি নির্মাণ করে জমিটি ঘিরে ফেলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের জমি বেদখল হয়ে গেছে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন সুধীর দাস ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে বিষয়টি অষ্টগ্রাম থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত জমিটির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে দখল কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্তদের একজন কাউসার অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তারা নিজেদের প্রয়োজনেই দাবি করা জমিতে বাউন্ডারি দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি সন্তোষ কুমার দেবনাথ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এভাবে দেয়াল নির্মাণ অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি সঠিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম বণিক বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অষ্টগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি আদালতের নির্দেশ অমান্যের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এ ঘটনায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

হোসেনপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সহায়ক উপকরণ, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজারুল ইসলাম।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী-মাসনাদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকো, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান (জিএস শরিফ), জেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, শফিকুল ইসলাম কাঞ্চন, আবুল হাশিম সবুজ, ফরিদ আহমেদ, কামরুজ্জামান খান ও সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাফায়েত হোসেন সম্রাট এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিমন মিয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে খেলাধুলার সামগ্রী, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, ছাতা, শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে।

ভৈরব রেলস্টেশনে ভিক্ষার আড়ালে চুরি: মোবাইলসহ গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ভৈরব রেলস্টেশনে ভিক্ষার আড়ালে চুরি: মোবাইলসহ গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ভিক্ষার আড়ালে চুরির অভিযোগে মোক্তার মিয়া (৬২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার মোক্তার মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার শরিয়তনগর এলাকার মজিবুর মিয়ার ছেলে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে স্টেশনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে প্লাটফর্মে অবস্থানরত ভাসমান ও ভবঘুরে প্রকৃতির লোকজনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ সময় ১ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ভাঙা হাতের অজুহাতে ভিক্ষাবৃত্তি করা মোক্তার মিয়াকে আটক করে তার পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মোবাইলটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোক্তার মিয়া স্বীকার করেন যে, ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে তিনি মোবাইল ফোনটি চুরি করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পঙ্গুত্বকে পুঁজি করে রেলস্টেশন ও বিভিন্ন ট্রেনে উঠে যাত্রীদের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে মোবাইল ফোন ও টাকা চুরি করে আসছিলেন বলেও জানান।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনটিও কোনো এক ট্রেনযাত্রীর কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে হোসেনপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, পাশে নেই কৃষি অফিস

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে হোসেনপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, পাশে নেই কৃষি অফিস

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে মাঠের পর মাঠ উঠতি ফসল ও ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিদলা ইউনিয়নের কৃষকরা। তবে প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের পরও এখন পর্যন্ত স্থানীয় কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খোঁজ নিতে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত কয়েক দিন ধরে রাতের প্রবল ঝড়ে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, ভুট্টা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবল বাতাসে বোরো ধানের গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের শীষ ঝরে গেছে। এছাড়া ঝড়ে ভুট্টা ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমন ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও করলার মাচা ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরাও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের টান সিদলা, নামা সিদলা, মেচেরা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষক কামরুল ইসলাম, নূর উদ্দিন, জসিম পাটান, গোলাপ পাটান, আলমগীর, আবুল হোসেন, আজিজুল, সাঈদুল ইসলাম, জলিল মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, ফারুক, কামাল, সোহেল, ওয়াহিদ, বাদল, খোকন, আমিনুল, নজরুল ইসলাম, হজরত আলীসহ অনেকে জানান, ধার-দেনা করে কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলালেও এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে।

একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারের মুখে কী তুলে দেব, তা জানি না। অথচ সারাদিন পার হয়ে গেলেও কৃষি অফিসের কেউ আমাদের সান্ত্বনা দিতে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখতে আসেননি।”

এদিকে সিদলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ও নজরুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাপ মিয়া এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মধু কিস্তিসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে উপস্থিত থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার কথা থাকলেও হোসেনপুরে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা যখন দিশেহারা হয়ে সরকারি সহায়তার আশায় রয়েছেন, তখন কৃষি অফিসের এমন নীরবতা ও দায়িত্বহীনতাকে চরম উদাসীনতা হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকার ও কৃষি বিভাগ যেন সরেজমিনে তদন্ত করে তাদের পাশে দাঁড়ায় এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।