বাজিতপুরে তীব্র পেট্রোল সংকট: লাইনে ১৭ ঘণ্টা অপেক্ষায় ২০০ টাকার জ্বালানি
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় তীব্র পেট্রোল সংকটের কারণে মোটরসাইকেল চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলার পৈলানপুর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি ১৭ ঘণ্টা থেকে দেড় দিন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকেই মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাম্পটিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাইনে অবস্থান করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে থাকছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রেখে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।
পাম্পের মালিক আরাফাত বাপ্পি জানান, “আগে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি হতো। বর্তমানে চাহিদা বেড়ে ২০০০ থেকে ৩০০০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। পাশের উপজেলাগুলোর পাম্প বন্ধ থাকায় কুলিয়ারচর ও নিকলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে ভিড় করছেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৫০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।”
পেট্রোল নিতে আসা সরারচর বাজারের ব্যবসায়ী মো. সফিক মিয়া বলেন, “৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। পরদিন ১ এপ্রিল সকাল ৭টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ২০০ টাকার জ্বালানি পাই। পরিচিতদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সীমিত পরিমাণ পাচ্ছে।”
বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “উপজেলায় পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুতই আরেকটি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ চালু করা হবে, এতে চাপ কমবে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। খুচরা দোকানে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক এই সংকট দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।”











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array