ধর্মীয় উৎসবের পর নববর্ষ বাঙালির প্রধান উৎসব-বিকৃতির অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন, বাংলা নববর্ষ উৎসবকে বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “এই উৎসবের মধ্যেই বাঙালির প্রকৃত সংস্কৃতি নিহিত রয়েছে।”
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় উৎসবের পর বাংলা নববর্ষ বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব। তবে একটি পক্ষ এই উৎসবকে ‘মুখোশ পরানোর’ চেষ্টা করছে, যা বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিন সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, বাউল গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন সদস্য ও তাদের পরিবার। পাশাপাশি দেশীয় খাবার—খই, মুড়ি, মুড়কি, গুড়ের পায়েস, হাওয়াই মিঠাই, পান্তা-ইলিশ, চটপটি ও ফুচকার আয়োজন ছিল।
এক শুভেচ্ছা বার্তায় তথ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নতুন বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষের সূচনা হয়েছিল মূলত কৃষকদের ফসলের হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে। তাই এই উৎসব যেমন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক, তেমনি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
সরকার কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই দিনে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “কৃষি ও কৃষকরাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কৃষি ও কৃষকদের কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করছে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, মোঘল আমলে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে সরকার এ বছর পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। অর্থনীতি পুনর্গঠন করে দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনকে গণতন্ত্র চর্চার স্বাভাবিক প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে একটি মুক্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, নতুন সরকার, নতুন গণতন্ত্র ও নতুন বছর—এই তিনের সমন্বয়ে এবারের বৈশাখ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। তিনি বলেন, এ বছর পহেলা বৈশাখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী ডিআরইউ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। পরে আনন্দ র্যালি ও আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।
এর আগে তিনি আনন্দ র্যালিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।










