মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

ধর্মীয় উৎসবের পর নববর্ষ বাঙালির প্রধান উৎসব-বিকৃতির অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধর্মীয় উৎসবের পর নববর্ষ বাঙালির প্রধান উৎসব-বিকৃতির অভিযোগ তথ্যমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন, বাংলা নববর্ষ উৎসবকে বিকৃত করার একটি অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “এই উৎসবের মধ্যেই বাঙালির প্রকৃত সংস্কৃতি নিহিত রয়েছে।”

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় উৎসবের পর বাংলা নববর্ষ বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব। তবে একটি পক্ষ এই উৎসবকে ‘মুখোশ পরানোর’ চেষ্টা করছে, যা বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিন সকাল থেকেই জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, বাউল গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন সদস্য ও তাদের পরিবার। পাশাপাশি দেশীয় খাবার—খই, মুড়ি, মুড়কি, গুড়ের পায়েস, হাওয়াই মিঠাই, পান্তা-ইলিশ, চটপটি ও ফুচকার আয়োজন ছিল।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তথ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, নতুন বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষের সূচনা হয়েছিল মূলত কৃষকদের ফসলের হিসাব সংরক্ষণের সুবিধার্থে। তাই এই উৎসব যেমন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক, তেমনি কৃষি অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সরকার কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একই দিনে সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে আয়োজিত পহেলা বৈশাখ ও নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “কৃষি ও কৃষকরাই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার কৃষি ও কৃষকদের কেন্দ্র করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করছে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, মোঘল আমলে কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে সরকার এ বছর পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। অর্থনীতি পুনর্গঠন করে দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনকে গণতন্ত্র চর্চার স্বাভাবিক প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে একটি মুক্ত ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, নতুন সরকার, নতুন গণতন্ত্র ও নতুন বছর—এই তিনের সমন্বয়ে এবারের বৈশাখ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। তিনি বলেন, এ বছর পহেলা বৈশাখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফজলুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

অনুষ্ঠান শেষে তথ্যমন্ত্রী ডিআরইউ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। পরে আনন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।

এর আগে তিনি আনন্দ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার প্রবীণ কৃষক ইনু মিয়া রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার শপথ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ভাত পরিহার করে আসছিলেন। অবশেষে পহেলা বৈশাখে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজ হাতে তাকে ভাত খাইয়ে সেই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞার ইতি টানেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র এলাকায় এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর ইনু মিয়া ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ভাত না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। সামাজিক ও পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি ভাত গ্রহণ করেননি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর ভাত গ্রহণ করে ইনু মিয়া হাসিমুখে তা গ্রহণ করেন। এতদিন তিনি কলা, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার খেয়ে জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা যায়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১২ জানুয়ারি এক স্থানীয় কর্মীসভায় বিষয়টি আলোচনায় এলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম প্রতিশ্রুতি দেন, দল ক্ষমতায় এলে তিনি নিজ হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়াবেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন ঘটল পহেলা বৈশাখের দিনে।

ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতি এমন ভালোবাসা ও ত্যাগ বিরল। ইনু মিয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং একটি নতুন ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইনু মিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল এবং কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। আগে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল।

ইনু মিয়া বলেন, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন ভাত পরিহার করেছিলেন। আজ ভাত খেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তার স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, বহুবার চেষ্টা করেও তাকে ভাত খাওয়ানো যায়নি। আজ এতদিন পর তাকে ভাত খেতে দেখে পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ইনু মিয়ার এই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে আনন্দ, ঐতিহ্য ও বাঙালিয়ানার অপূর্ব এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে পুরো উপজেলায় উৎসবমুখর ও প্রাণচঞ্চল পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে বয়স, পেশা ও মতভেদের সীমা অতিক্রম করে সবাই অংশ নেন এক আনন্দযাত্রায়।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

পরে আসাদুজ্জামান খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের গান, নৃত্য ও পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দলীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও কনসার্ট। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই অংশ নেন কেনাকাটা ও আনন্দ-উল্লাসে।

এর আগে সকালে আয়োজিত পান্তা-ইলিশ ভোজে অংশ নেন আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা। গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্বাদ ও সৌহার্দ্যের আবহে উৎসবের আনন্দ আরও গভীর হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে হোসেনপুরে পহেলা বৈশাখ কেবল একটি দিন নয়, বরং ছিল হৃদয়ের মিলন, সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এবং নতুন স্বপ্নের অনন্য সূচনা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির চিরন্তন উৎসব, যা সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়।” তিনি হোসেনপুরবাসীকে আন্তরিক নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু কাল: শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু কাল: শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল বুধবার(১৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা কমাতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

১. প্রয়োজনীয় উপকরণ গুছিয়ে রাখা:
আজ বিকেলের মধ্যেই প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড), কলম, পেনসিল ও জ্যামিতি বক্স একটি স্বচ্ছ ফাইলে গুছিয়ে রাখতে হবে, যাতে পরীক্ষার দিন কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না হয়।

২. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম:
শেষ রাতে অতিরিক্ত পড়াশোনা না করে সময়মতো ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে এবং পরীক্ষার হলে সঠিক উত্তর মনে রাখতে সহায়তা করে।

৩. পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়মতো উপস্থিতি:
যানজট বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার অন্তত ৩০–৪০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে।

৪. ওএমআর (OMR) শিট পূরণে সতর্কতা:
রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বৃত্ত ভরাট করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ভুল হলে না ঘাবড়ে দায়িত্বরত শিক্ষককে জানাতে হবে।

৫. প্রশ্নপত্র মনোযোগ দিয়ে পড়া:
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর অন্তত ৫ মিনিট সময় নিয়ে পুরো প্রশ্নপত্র ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে এবং কোন প্রশ্ন আগে উত্তর দেওয়া হবে তা পরিকল্পনা করতে হবে।

৬. সহজ প্রশ্ন আগে উত্তর দেওয়া:
যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সবচেয়ে ভালো জানা আছে, সেগুলো আগে লিখতে হবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

৭. সময় ব্যবস্থাপনা:
কোনো একটি প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যাবে না। প্রতিটি প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তর দিতে হবে।

৮. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা:
উত্তরপত্রে অপ্রয়োজনীয় কাটাকাটি ও ঘষামাজা এড়িয়ে চলতে হবে। হাতের লেখা স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন হলে ভালো মূল্যায়নের সম্ভাবনা বাড়ে।

৯. কোনো প্রশ্ন ফাঁকা না রাখা:
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কোনো প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর জানা না থাকলেও প্রাসঙ্গিকভাবে কিছু লিখে আসা উচিত।

১০. শেষ মুহূর্তে রিভিশন:
পরীক্ষা শেষের আগে অন্তত ১০ মিনিট সময় রেখে পুরো উত্তরপত্র একবার মিলিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে রোল নম্বর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করতে হবে।