শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস: ক্ষমতার খেলা নাকি সেবার রাজনীতি?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
উপজেলায় সংসদ সদস্যদের অফিস: ক্ষমতার খেলা নাকি সেবার রাজনীতি?

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যে একটি স্বীকৃত কাঠামো রয়েছে, যেখানে আইন প্রণয়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন- দুইটি দায়িত্ব আলাদাভাবে নির্ধারিত। সাধারণভাবে আইন প্রণেতারা জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন, আর স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এই ভারসাম্যই কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য অফিস স্থাপনের উদ্যোগ এই কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অনেকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ধীরে ধীরে এটিকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরা, আইন প্রণয়ন করা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রদান করা। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনা করা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তাদের জন্য দাপ্তরিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কার্যকর ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যকে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত করা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান নির্বাহী হিসেবে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে- এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান উদ্যোগকে অনেকেই সেই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।

সমালোচকদের মতে, সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপন করা হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রভাব বাড়বে। এতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে এবং স্থানীয় প্রশাসনে পরোক্ষ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের কাছে প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক করা। কিন্তু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের স্থানীয় কাঠামোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হলে এই বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং উল্টো কেন্দ্রীয়করণের প্রবণতা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, সংসদ সদস্যরা স্থানীয় উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে সেই ভূমিকা হওয়া উচিত নীতিগত ও তদারকিমূলক- সরাসরি প্রশাসনিক নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরা- এটাই তাদের কার্যকর ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়ই বলা হয়- “রাজনীতি যদি ভারসাম্য হারায়, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।” স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা প্রযোজ্য। কারণ, ক্ষমতার সুষম বণ্টন নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং সেবা বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য- যাতে জনগণ সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারে।

চামটা বন্দরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে অভিযান, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
চামটা বন্দরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে অভিযান, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চামটা বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অনিয়মের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চামটা বন্দর এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবিরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়। একই সময় অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির অপরাধে ‘এহসান ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি তিনি অতিরিক্ত মজুদদারি, মূল্যবৃদ্ধি, ভেজাল ও মাদকবিরোধী একাধিক সফল অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এছাড়া ভূমি সেবা সহজীকরণে তিনি ‘মৃত্তিকা মায়া’ নামে ভূমি অফিসে একটি হেল্প ডেস্ক চালু করেছেন। এর মাধ্যমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজেই সেবা গ্রহণকারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

তার উদ্যোগ ও কর্মদক্ষতায় উপজেলার ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পাকুন্দিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা,সন্দেহভাজন ২ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা,সন্দেহভাজন ২ জন আটক

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে সানি (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সানি ওই গ্রামের কাতারপ্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মফিজুলের দুই ভাই—আজিজুল ও নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। তারা একই গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হিজলিয়া দক্ষিণপাড়া মসজিদের পাশে মফিজুলের নেতৃত্বে কয়েকজন সানিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। এ সময় সানির চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই থেকে তিন বছর আগে স্কুলের খেলাকে কেন্দ্র করে মফিজুলের সঙ্গে সানির কথা-কাটাকাটি হয়। সে সময় সানি তাকে থাপ্পড় মারেন। এছাড়া অন্য কোনো শত্রুতার কথা তাদের জানা নেই।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অষ্টগ্রাম থানায় নতুন ওসি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর

আলী রহমান খান প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রাম থানায় নতুন ওসি, সাংবাদিকদের সঙ্গে সমন্বয়ে জোর

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে অষ্টগ্রাম থানায় ওসির উদ্যোগে এ সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় নবাগত ওসি মো. রোকনুজ্জামান বলেন, পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাংবাদিকদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। তাই পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা সম্ভব।”

মতবিনিময় সভায় উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের সময়-এর প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম সাগর, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রতিনিধি অজিত দত্ত, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকাল-এর প্রতিনিধি আলী রহমান, দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর প্রতিনিধি আতাউল গনি, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন-এর অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি মাহবুব আলম, দৈনিক ইনকিলাব-এর প্রতিনিধি নাদিরুজ্জামান আজমল, দৈনিক আমার সংবাদ-এর উপজেলা প্রতিনিধি ঝুটন মিয়াসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন এবং পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।