ইঞ্জিন বিকলঃ ভৈরবে ৩ ঘণ্টা আটকা চট্টলা এক্সপ্রেস
ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় তিন ঘণ্টা ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে ট্রেনটির শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ট্রেন বিলম্বের কারণে অন্যান্য ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় চট্টলা এক্সপ্রেস। পথে নরসিংদী স্টেশনে পৌঁছার পর ট্রেনটির ইঞ্জিনে প্রথম দফায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে সেখানে প্রায় ৪০ মিনিট ট্রেনটি আটকে থাকে।
পরে সাময়িকভাবে ইঞ্জিন মেরামত করে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছার পর আবারও ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে স্টেশনে দীর্ঘ সময় ট্রেনটি আটকে থাকে এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রথমে বিকল ইঞ্জিনটি সরিয়ে অন্য লাইনে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা থেকে (২৯০৭ এমইআই) নম্বরের একটি ইঞ্জিন এনে রাত ৮টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মেঘনা সেতুর কাছে পৌঁছার পর সেই ইঞ্জিনেও ত্রুটি দেখা দেয়।
পরবর্তীতে তিতাস কমিউটার ট্রেনকে দৌলতকান্দি স্টেশনে থামিয়ে রেখে ওই ট্রেনের (২৯০১ এমইআই) ইঞ্জিন এনে চট্টলা এক্সপ্রেসে সংযুক্ত করা হয়। পরে রাত ১০টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
চট্টলা এক্সপ্রেসের সহকারী লোকোমাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, “ঢাকা ছাড়ার পর থেকেই ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। নরসিংদীতে মেরামতের পর ভৈরবে এসে আবার বিকল হয়। পরে বিকল্প ইঞ্জিন আনার পর সেটিতেও ত্রুটি দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত তিতাস কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।”
এদিকে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ট্রেনের যাত্রী শাহীন মিয়া, সুমন মিয়া ও রতন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “চট্টলা এক্সপ্রেসে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিশেষ করে ঈদযাত্রার সময় এমন ভোগান্তি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পরিবার নিয়ে যাত্রা করতে গিয়ে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।”
ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, “চট্টলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে একাধিকবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেনটি দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। পরে বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করে ট্রেনটি গন্তব্যে পাঠানো হয়।”
তিনি আরও জানান, চট্টলা এক্সপ্রেসের বিলম্বের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর এক্সপ্রেস ও তিতাস কমিউটার ট্রেন চলাচলেও বিলম্ব হয়।













