মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

ঠাডারকান্দা বাজারের ভাঙা কালভার্ট যেন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঠাডারকান্দা বাজারের ভাঙা কালভার্ট যেন মরণফাঁদ, চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া হয়ে পুলেরঘাট অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ঠাডারকান্দা বাজারসংলগ্ন একটি কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে প্রতিদিন আতঙ্ক ও দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এ সড়ক ব্যবহার করেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে কালভার্টটির মাঝখানের অংশ ধসে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে সবাইকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালভার্টটির মাঝখানে বড় ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতে কিংবা বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা অংশে লোহার রড ও কাঠের খুঁটি দিয়ে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সেটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহন চলাচলের সময় পুরো কালভার্ট কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সাময়িক কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী সমাধানের অভাবে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবল স্রোতে কালভার্টটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ভাঙা কালভার্টটি সংস্কার অথবা নতুন করে একটি টেকসই কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, হোসেনপুর ও পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শাহেদল ইউনিয়ন পরিষদ-এর চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, “ওই স্থানে নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে, স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিশ্বকাপের হার থেকে বাবার মৃত্যু- মেসির বিদায়ের নেপথ্যে যে গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের হার থেকে বাবার মৃত্যু- মেসির বিদায়ের নেপথ্যে যে গল্প

দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন বার্তায় ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানান, জাতীয় দলের হয়ে আর মাঠে নামবেন না তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। তবে অবসরের সিদ্ধান্তটি যে একেবারে হঠাৎ নেওয়া নয়, তা তাঁর প্রকাশিত চিঠি থেকেই স্পষ্ট। মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি অবসরের চিঠিটি লিখেছিলেন। পরে সেটি প্রকাশ না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

অবসরের ঘোষণায় মেসি বলেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং এখনো গভীরভাবে নাড়া দেয়। তবে দীর্ঘ সময় ভেবে তিনি বুঝেছেন, জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর এটাই উপযুক্ত সময়।

জাতীয় দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। শুধু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগের কঠিন সময়েও আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি।

জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর কাছে সবসময় ভালোবাসার বিষয় ছিল উল্লেখ করে মেসি জানান, নিজের দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই বলে তাঁর মনে হয়েছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

মেসির অবসরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর ঘটনাটিও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। হোর্হে মেসি ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর রোজারিওতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি শুধু মেসির বাবা ছিলেন না; শৈশব থেকেই তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান অভিভাবক ও এজেন্ট ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর পর মেসি এক আবেগঘন বার্তায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, বাবাকে ছাড়া কীভাবে এগিয়ে যাবেন, তা জানেন না এবং দীর্ঘদিন আর ফুটবল চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েও তাঁর যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে।

তবে সোমবারের অবসরবার্তায় মেসি স্পষ্ট করেন, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্তের মূল কারণ নয়; বরং সেই ঘটনার পর নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি আরও নিশ্চিত হয়েছেন।

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। ফলে ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রানার্সআপ হয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়।

ফাইনালের দুই দিন পরই মেসি অবসরের চিঠি লিখেছিলেন। তবে তখনই সেটি প্রকাশ করেননি। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলো রেকর্ডের চূড়ায় দাঁড়িয়ে। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫ গোল—দুটিই আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ।

তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জিতেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা তাঁর নেতৃত্বে ফাইনালে উঠেছিল।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসর অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আবেগের বশে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে আবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফিরে আসেন।

এরপরই শুরু হয় তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল অধ্যায়। কোপা আমেরিকা, বিশ্বকাপ এবং আরও একটি কোপা আমেরিকা জিতে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান।

বিদায়বার্তায় মেসি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার পথে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা কখনো ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

এখন থেকে জাতীয় দলের জার্সি পরে নয়, একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে আর্জেন্টিনাকে অনুসরণ করতে চান মেসি। সতীর্থ, কোচ, কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে এমন কিছু স্বপ্নের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন, যেগুলো একসময় শুধু স্বপ্নই ছিল—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

মেসির অবসর শুধু আর্জেন্টিনা দলের জন্য নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যও একটি যুগের সমাপ্তি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হতাশা, সমালোচনা ও ব্যর্থতার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপসহ বড় তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে নিজের উত্তরাধিকারকে পূর্ণতা দিয়েছেন তিনি।

৩৯ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি মেসি। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন তিনি। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে আর দেখা না গেলেও ফুটবল মাঠে তাঁর অধ্যায় এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের হতাশা, বাবার মৃত্যুশোক এবং দীর্ঘ আত্মবিশ্লেষণের পর শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন মেসি। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার শেষে তাঁর বিদায় তাই কেবল একজন ফুটবলারের অবসর নয়—আর্জেন্টাইন ফুটবলের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তিও।

কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন, সাম্য-মানবতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম, দর্শন ও সাম্যবাদী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন; তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমেরও কবি ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাইমিনুল ইসলাম আরিফ, কটিয়াদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর এবং কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ খোকন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মাইনুল হক মেনু, কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সদস্যরা, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কটিয়াদী নজরুল একাডেমির সহসভাপতি সাজেদুল ইসলাম সেলিম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবির কবিতা আবৃত্তি এবং তাঁর রচিত গান পরিবেশন করে। এতে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়।

বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবেই পরিচিত নন; তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও প্রেমের কবি। তাঁর সাহিত্য অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে তাঁর কবিতা ও গানে মানবপ্রেম, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাম্যের বার্তা ফুটে উঠেছে।

বক্তারা আরও বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বর্তমান প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর রচনা পাঠ ও চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব। ‘নজরুল বর্ষ’-এর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্যকর্ম, সংগীত ও জীবনাদর্শের চর্চা আরও বিস্তৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

তাড়াইলে ‘হয়রানিমূলক মামলা’র অভিযোগ এনসিপির, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ‘হয়রানিমূলক মামলা’র অভিযোগ এনসিপির, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে নাশকতার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও জুলাই আন্দোলনের কর্মী মো. রুবেল ভূঁইয়াসহ নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে জেলা এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন দলটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন বলেন, গত ২৯ আগস্ট তাড়াইল থানায় উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হাসান (৪৪) বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এনসিপির নেতাকর্মীসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইকরাম হোসেন বলেন, মামলায় সাচাইল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. ওমর খান সানিকে ৪ নম্বর আসামি, তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মবিনকে ১০ নম্বর আসামি এবং এনসিপির তাড়াইল উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রুবেল ভূঁইয়াকে ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাউতি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম পারভেজকে ৩৩ নম্বর এবং বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী আলমকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই না করেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। এতে বিএনপির নিজ দলের নেতাকর্মী, এনসিপির নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

ইকরাম হোসেন বলেন, তাড়াইল উপজেলায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি মহল হয়রানি ও নির্যাতন চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন—এমন বিএনপির ত্যাগী কর্মী, এনসিপির নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এনসিপি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

মামলার ২৮ নম্বর আসামি মো. রুবেল ভূঁইয়া বলেন, মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের জন্য তিনি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি থেকে রক্ষা করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল প্রিন্স, জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, তাড়াইল উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক সার্জেন্ট মহিউদ্দিন মাসুদ, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আনাস ইব্রাহিমসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।