জনপ্রিয় হাওর পর্যটনকেন্দ্র নিকলী, অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারানোর শঙ্কা
বর্ষার শুরুতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত পর্যটনকেন্দ্র নিকলী। অথৈ জলরাশি, দিগন্তজোড়া হাওর, ঢেউয়ের দোলা আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। তবে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই নিকলী হাওরের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকাগুলো ময়লা-আবর্জনা, খড়ের স্তূপ ও গোবরের তৈরি জ্বালানিতে (ঘুঁটে) দখল হয়ে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা।
প্রতি বছরের মতো এবারও জুলাই শুরুর আগ থেকেই থেকে নিকলী হাওর রূপ নিয়েছে এক বিশাল জলরাশির রাজ্যে। উপজেলা পরিষদ চত্বর, মহারকোনা বেড়িবাঁধ, ছাতিরচর এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কিন্তু এই পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বেড়িবাঁধ ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, রাস্তা ও বাঁধজুড়ে শুকাতে দেওয়া খড় এবং গোবরের তৈরি জ্বালানি (ঘুঁটে) পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার নান্দনিকতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যটকদের কাছে নিকলী হাওরের সৌন্দর্যই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা এবং সরকারি জায়গা দখল করে খড় ও ঘুঁটে শুকানোর কারণে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিকলীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যটকরা বলেন, এত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রের এমন নোংরা পরিবেশ হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বেড়িবাঁধে দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় ট্রলার মালিক, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমই তাদের আয়ের প্রধান সময়। পর্যটকদের ওপরই নির্ভর করে তাদের অধিকাংশ ব্যবসা।
তারা বলেন, “সারা বছর আমরা বর্ষার অপেক্ষায় থাকি। পর্যটক এলে আমাদের ব্যবসা সচল থাকে। পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আগমনে নিকলীর অর্থনীতি সচল থাকে। এই পর্যটন সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে মাইকিং করে ময়লা-আবর্জনা, খড় ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করে বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মৌসুমি অভিযান নয়, নিকলী হাওরের পর্যটন এলাকা রক্ষায় স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই হাওর পর্যটনকেন্দ্রের আকর্ষণ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।







