বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

জনপ্রিয় হাওর পর্যটনকেন্দ্র নিকলী, অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারানোর শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জনপ্রিয় হাওর পর্যটনকেন্দ্র নিকলী, অব্যবস্থাপনায় সৌন্দর্য হারানোর শঙ্কা

বর্ষার শুরুতেই প্রাণ ফিরে পেয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত পর্যটনকেন্দ্র নিকলী। অথৈ জলরাশি, দিগন্তজোড়া হাওর, ঢেউয়ের দোলা আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। তবে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই নিকলী হাওরের অন্যতম আকর্ষণীয় এলাকাগুলো ময়লা-আবর্জনা, খড়ের স্তূপ ও গোবরের তৈরি জ্বালানিতে (ঘুঁটে) দখল হয়ে পড়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরের মতো এবারও জুলাই শুরুর আগ থেকেই থেকে নিকলী হাওর রূপ নিয়েছে এক বিশাল জলরাশির রাজ্যে। উপজেলা পরিষদ চত্বর, মহারকোনা বেড়িবাঁধ, ছাতিরচর এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে বিকেলের সূর্যাস্ত উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কিন্তু এই পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বেড়িবাঁধ ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, রাস্তা ও বাঁধজুড়ে শুকাতে দেওয়া খড় এবং গোবরের তৈরি জ্বালানি (ঘুঁটে) পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণের কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার নান্দনিকতা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পর্যটকদের কাছে নিকলী হাওরের সৌন্দর্যই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা এবং সরকারি জায়গা দখল করে খড় ও ঘুঁটে শুকানোর কারণে পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিকলীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটকরা বলেন, এত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রের এমন নোংরা পরিবেশ হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বেড়িবাঁধে দখলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় ট্রলার মালিক, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালক, রেস্টুরেন্ট এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমই তাদের আয়ের প্রধান সময়। পর্যটকদের ওপরই নির্ভর করে তাদের অধিকাংশ ব্যবসা।

তারা বলেন, “সারা বছর আমরা বর্ষার অপেক্ষায় থাকি। পর্যটক এলে আমাদের ব্যবসা সচল থাকে। পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আগমনে নিকলীর অর্থনীতি সচল থাকে। এই পর্যটন সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। ইতোমধ্যে মাইকিং করে ময়লা-আবর্জনা, খড় ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করে বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, শুধু মৌসুমি অভিযান নয়, নিকলী হাওরের পর্যটন এলাকা রক্ষায় স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই হাওর পর্যটনকেন্দ্রের আকর্ষণ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জাহাঙ্গীর হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে মিঠামইনে বিএনপির বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দল-মত নির্বিশেষে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন বলে আয়োজকেরা দাবি করেন।

পরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কামাল পাশা, নিহতের চাচা আইনজীবী ফরিদ আহমেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি বাহার মিয়া এবং নিহতের ছোট ভাই ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক আলমগীর শিকদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা সব ব্যক্তি ও সহযোগীর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার মোহাম্মদ জানান, গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা সদরে নিজ বাসভবনের সামনে হামলার শিকার হন জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর।

ওসি জানান, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে উপর্যুপরি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৮ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ মোট নয়জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে জমি দখলের ছক, নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সংঘটিত হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সুগম করতে সহযোগীদের নিয়ে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে চাম্পা (৪৮)-এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পাকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের মোছা. হালিমা নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগানো দেখতে পান তাঁর মেয়ে চাম্পা। পরে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে স্বজনরা দেখতে পান, মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। তাঁর নাক ও মুখে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন ছিল এবং গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো ছিল।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রতিবেশী বিল্লালসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই কিশোরগঞ্জ গ্রহণ করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মামলার বাদী চাম্পার কথাবার্তায় অসংগতি পান তদন্তকারীরা। একপর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল করা হয়নি। পরে বিল্লাল জমিটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে জায়গাটি নিয়ে হালিমার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিবিআই বলছে, এ ঘটনার পর প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন চাম্পা ও তাঁর সহযোগীরা।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে চাম্পার সহযোগীরা তাঁদের বাড়িতে আসে। আগের বিরোধ মীমাংসার কথা বলে চাম্পা তাঁর মাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন।

এরপর সহযোগীদের নিয়ে হালিমাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহের মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন চাম্পাই বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পিবিআইয়ের দাবি, প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের পথ সহজ করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

পিবিআই জানায়, দীর্ঘ তদন্তের একপর্যায়ে চাম্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি সংস্থাটির। পরে গত ১৮ আগস্ট কিশোরগঞ্জের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে সহযোগীদের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের লক্ষ্যে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কিশোরগঞ্জের পরিদর্শক মো. আশরাফুল আলম, পরিদর্শক খাইরুল বাসার, পরিদর্শক নবী হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হোসেনপুরের নতুন ইউএনও রেকসোনা খাতুনের দায়িত্ব গ্রহণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের নতুন ইউএনও রেকসোনা খাতুনের দায়িত্ব গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন (১৮৪০৯)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিদায়ী ইউএনও কাজী নাহিদ ইভার কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন ইউএনও হিসেবে রেকসোনা খাতুনের যোগদানে হোসেনপুরবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানিয়েছেন।

রেকসোনা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ৩৩তম বিসিএসে নন-ক্যাডার হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ৩৪তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগ দেন।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে রেকসোনা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের কারণে প্রশংসিত হন।

কেশবপুরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কেশবপুর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেন। ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কেশবপুরে দায়িত্ব পালনকালে রেকসোনা খাতুনের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা অর্জন করে। অনাথ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও নিজ হাতে খাবার পরিবেশন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ এবং বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।

এ ছাড়া তীব্র শীতের সময় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সহযোগিতা এবং অসহায় প্রতিবন্ধী নারীদের হুইলচেয়ার দেওয়ার মতো বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি পান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

সম্প্রতি সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রেকসোনা খাতুনকে ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। নতুন কর্মস্থলে তাঁর যোগদানের পর উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন হোসেনপুরবাসী।

নতুন ইউএনওর কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবেন তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি ব্যবস্থাপনা, জনসেবা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।