বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাকুন্দিয়ায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় পাকুন্দিয়ায় স্বামী-স্ত্রী নিহত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এ ঘটনায় তাঁদের মেয়েসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার সুখিয়া বাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় ঢাকা-কিশোরগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—পাকুন্দিয়া উপজেলার কাগারচর গ্রামের নুরু মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা (৫৮)। আহতরা হলেন তাঁদের মেয়ে মারজিয়া খাতুন এবং জাহাঙ্গীর ও মাহিম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পাকুন্দিয়া থেকে কিশোরগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি সুখিয়া বাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মাছবাহী ট্রাক সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা নুরু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে নিহত দম্পতির মেয়ে মারজিয়া খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। দুর্ঘটনার পর মাছবাহী ট্রাকটি পালিয়ে গেছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাওহীদ হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কিছু সময় যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই গ্রামের জনসংখ্যা চার হাজারের বেশি। ফলে প্রায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কুন্দ্রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কার্তিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কাদামাখা ও দুর্ভোগপূর্ণ সড়ক পেরিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না; কমে যায় উপস্থিতির হারও।

তাড়াইল উপজেলায় মোট ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে এর কোনোটিই ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামের শিশুদের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে যাতায়াত করা সম্ভব হলেও বর্ষায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। কাদামাখা রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। ফলে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতির হারও কমে যায় বলে জানান অভিভাবকেরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্বের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বাড়ির কাছাকাছি গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁদের মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়ে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

বান্দুলদিয়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ হাজী রমজান আলী বলেন, ‘জীবন সায়াহ্নে এসে এখনও স্বপ্ন দেখি, এই গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন আর কষ্ট করে দূরের স্কুলে যেতে না হয়। আমরা অনেক বছর ধরে এই দাবি করে আসছি। জীবিত থাকা অবস্থায় যদি এই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখে যেতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নতুন নয়। এ দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর পক্ষে ইদিলপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুস ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়।

একই দাবিতে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে বান্দুলিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজ কর্মকর্তা শাহ আবুল হাশেম (মানিক) ঢাকার শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আবেদনের পরও সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে তাঁরা এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাননি।

ইদিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী বলেন, ‘আমাদের দুই গ্রামের শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে কাদামাখা রাস্তা পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘আমিও স্বীকার করি, ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া—এই দুটি গ্রামের মাঝামাঝি একটি বিদ্যালয় থাকা দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকারিভাবে নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। তবে নতুন করে কিন্ডারগার্টেন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমার যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি করব।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চার হাজারের বেশি মানুষের বসবাস এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকলে অন্তত একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বছরের পর বছর আবেদন-নিবেদনের পর এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এতে ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়ার কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা-ভোগান্তির অবসান হবে। আর হাজী রমজান আলীর মতো প্রবীণদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।

ছাদ-বিমে ফাটল, খসে পড়ছে আস্তর; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ছাদ-বিমে ফাটল, খসে পড়ছে আস্তর; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান

কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একাডেমিক ভবনেই চলছে পাঠদান। প্রায় এক দশক আগে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও খসে পড়েছে আস্তর। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এটি এখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই ভবনটি পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, একাডেমিক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলও সন্তোষজনক। কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চিত্রামনি ও মোহাম্মদ ওমা বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভবনেই ক্লাস করতে হয়। কখন যে বিম বা ছাদের কোনো অংশ ভেঙে মাথায় পড়ে যায়, সেই ভয় সব সময় কাজ করে। আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হয়।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. খাদিজা বলেন, ‘এই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় হয়। এর আগেও ছাদের আস্তর ভেঙে পড়েছে। সব সময় মনে হয়, কখন কী হয়।’

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল খায়ের সানাউল্লাহ বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় এটি একমাত্র দাখিল মাদ্রাসা। এখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ২০১৬ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার আবেদন করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসায় দ্রুত নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছু নাহার মাকসুদা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।’

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাব। এরপর যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি, হাওরের প্রবেশদ্বার বালিখোলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি, হাওরের প্রবেশদ্বার বালিখোলায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সারাদেশের মতো কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলাতেও শুরু হয়েছে দেশের প্রথম ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’। নৌযানের সংখ্যা, ধরন, মালিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে দেশের নৌযান খাতের একটি নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে এ শুমারি পরিচালনা করা হচ্ছে।

আগামী ২০ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নদী, ঘাট ও জলাশয়ে মাঠপর্যায়ে নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রম সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এবং সাধারণ মানুষকে শুমারি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বালিখোলা ঘাট এলাকায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও উদ্বোধনী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা। র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় ও করিমগঞ্জ উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপথ ও নৌযানের সঠিক পরিসংখ্যান দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নৌযান শুমারির মাধ্যমে নৌযান সম্পর্কিত নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ নৌযান শুমারি সফল করতে তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা নৌযান মালিকদের দায়িত্ব। শুমারি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি নৌযান মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে তথ্য সংগ্রহকারীরা করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ঘাট, নদী ও জলাশয়ে গিয়ে নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ সময় শুমারির নির্ধারিত প্রশ্নমালা অনুযায়ী নৌযানের ধরন, সংখ্যা, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী ছোট-বড় নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা ও ধরন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে। সংগৃহীত তথ্য ভবিষ্যতে নৌপথ ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া নৌযান খাতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে এ খাতের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা নিরূপণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

স্থানীয়ভাবে নৌপথনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নৌযান ব্যবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যোগাযোগে নৌযানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এ শুমারি থেকে পাওয়া তথ্য হাওরাঞ্চলের নৌযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41