জাঙ্গালিয়ায় পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভবন, মাদক-অসামাজিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ
প্রতীকী ছবি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভবনটিকে ঘিরে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশের আবাসিক ভবনটির দরজা-জানালা ভেঙে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ভবনটির সুযোগ নিয়ে সেখানে মাদকের আড্ডা বসে। পাশাপাশি রাতের বেলায় নারী-পুরুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের দাবি, ভবনটিতে এসব কর্মকাণ্ডে কয়েকবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্টো হুমকি দিয়েছেন। ফলে ভয়ে অনেকেই সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এদিকে গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে স্থানীয় কয়েকজন ওই ভবনের আশপাশে নজরদারি করেন। তাঁদের দাবি, জাঙ্গালিয়া বাজারের একটি দোকানে রাতভর অবস্থানের পর ভোরের দিকে এক নারী সেখান থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক ভবনের দিকে যান। পরে সকালে স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় ওই নারী এলাকার এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাঁকে সেখানে নিয়ে এসেছেন বলে জানান—এমন দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা শুরু হয় এবং তা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে আশপাশের পরিবেশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জাঙ্গালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাজারের পাহারাদারদের নিয়ে এক নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখন তিনি কয়েকজনের নাম বলেন। পরে সংশ্লিষ্টদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু উল্টো তাঁরা হুমকি দিয়েছেন।’
জাঙ্গালিয়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন বলেন, ‘মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে আমার বাবা গোলাম বারী ও সুধীর চন্দ্র বণিক হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত আবাসিক ভবনটি সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করা হোক এবং মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরে এ আলম বলেন, ‘জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক ভবনটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলব।’
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার খাতুন বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওই আবাসিক ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত নিলামের মাধ্যমে এটি ভেঙে ফেলা হবে। পাশাপাশি নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস বলেন, ‘একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array