বর্ষায় পদ্মের স্বর্গরাজ্য সিঙ্গার বিল, ছুটছেন দূর-দূরান্তের মানুষ
বর্ষা এলেই বদলে যায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গার বিলের চিত্র। বিস্তীর্ণ জলাভূমিজুড়ে ফুটে থাকা অসংখ্য গোলাপি পদ্মে পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় অপরূপ এক পদ্মরাজ্যে। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী।
স্থানীয়ভাবে সিঙ্গার বিল এখন ‘পদ্মবিল’ নামেই বেশি পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে বিলজুড়ে পদ্মের সমারোহে তৈরি হয় নৈসর্গিক পরিবেশ। বিশেষ করে শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছোট ছোট নৌকায় বিলের পানিতে ঘুরে পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন পরিবার, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকেই পদ্মফুলের সঙ্গে ছবি তুলে বর্ষার এই অনন্য সৌন্দর্য স্মৃতিতে ধরে রাখছেন।
সম্প্রতি পদ্মবিলে ঘুরতে আসা করিমগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোনালী ও নেহা বলে, ছুটির দিনে পরিবার ও বান্ধবীদের সঙ্গে পদ্মবিলে ঘুরতে এসে তাদের বেশ ভালো লেগেছে। চারপাশের পরিবেশ ও পদ্মফুলের সৌন্দর্য তাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছে।
তবে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নৌকা ভাড়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। দর্শনার্থীদের দাবি, সাধারণ দিনে ১০ থেকে ২০ মিনিট বিল ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য ছোট নৌকার ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপের সুযোগ নিয়ে একই নৌকার জন্য ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মবিলে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও বিলের পাড়ে যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা এখনো ভালো নয়। মূল সড়ক থেকে পদ্মবিলের পাড় পর্যন্ত যেতে অনেকটা পথ হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে যেতে হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কেউ কেউ বিলের পাড় পর্যন্ত যেতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।
পূর্বচর কংশি এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ পদ্মবিল দেখতে আসছেন। কিন্তু ভালো রাস্তা না থাকায় দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিলের পাড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা গেলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগারের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আক্তার জানান, পদ্মবিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। বিলটির একটি অংশ তাড়াইল এবং অপর অংশ করিমগঞ্জ উপজেলার মধ্যে পড়েছে। পাকা সড়ক থেকে পদ্মবিলের পাড় পর্যন্ত যোগাযোগ সড়কটি তাড়াইল উপজেলার আওতাধীন।
তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নৌকার ভাড়া নিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই পদ্মবিলকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এজন্য উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, নৌযানের ভাড়া নির্ধারণ এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।










Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array