বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সমুদ্রের রূপে হাওর, কিশোরগঞ্জে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সমুদ্রের রূপে হাওর, কিশোরগঞ্জে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়

বর্ষার বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। চারদিকে অথৈ জলরাশি, মাথার ওপর নীল আকাশ, পানির বুকজুড়ে উড়ে বেড়ানো সাদা বকের ঝাঁক আর জলবেষ্টিত ছোট ছোট গ্রামের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। বর্ষার এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন নিকলী, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রামের হাওরাঞ্চলে।

বর্ষাকালে কিশোরগঞ্জের হাওরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে জল আর আকাশের অপূর্ব মেলবন্ধন। দিগন্তজোড়া জলরাশি যেন বিশাল সমুদ্রের অনুভূতি সৃষ্টি করে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, জল আর আকাশ একাকার হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়।

নিকলী উপজেলার ছাতিরচরের জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) বর্ষা মৌসুমে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল ও করচ গাছের সারি অনেক দর্শনার্থীর কাছে সিলেটের রাতারগুল জলাবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সবুজ গাছপালা, শান্ত জলরাশি এবং নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দেয়।

পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক। হাওরের বুক চিরে নির্মিত এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রোবাসে ভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি আর মাঝখানে সরু সড়ক বর্ষাকালের ভ্রমণে অন্যরকম রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। অনেক পর্যটক এই সড়কে থেমে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

ভোর থেকেই নিকলীর বালিখলা ঘাট, বেড়িবাঁধ, হাসানপুর সেতু ঘাটসহ বিভিন্ন নৌঘাটে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়। ট্রলার, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে তারা হাওরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ান। ট্রলারের ছাদে বসে গান, শীতল বাতাস উপভোগ, দলবেঁধে আড্ডা এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় কাটান ভ্রমণকারীরা।

স্থানীয় মাঝিরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে যে হাওরজুড়ে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত দেখা যায়, বর্ষা এলেই সেই একই এলাকা বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। এ সময়ই হাওরের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাই বর্ষা মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে।

হাওর ভ্রমণের আরেকটি বড় আকর্ষণ এখানকার টাটকা দেশীয় মাছ। বোয়াল, চিতল, আইড়, পাবদা, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মাছ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ঘাটসংলগ্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলোতে প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায়ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রলার ও স্পিডবোটে ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকেন্দ্রিক এই পর্যটন কার্যক্রম হাওরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের আগমনে নৌযান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্থানীয় পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবাখাতে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবারের মৌসুমি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে এই পর্যটন।

পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কিশোরগঞ্জের হাওর কেবল দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

কিশোরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ, ষড়যন্ত্র মোকাবিলার ঘোষণা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ-সমাবেশ, ষড়যন্ত্র মোকাবিলার ঘোষণা

পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ইয়াসের খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন।

এ সময় জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। এ সময়ে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা হয়েছে এবং লাখ লাখ নেতাকর্মী আসামি হয়েছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের কারাবরণ, নির্যাতন ও নানা ত্যাগ স্বীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংসদ কচু পাতার পানি, ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকব। সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

সমাবেশে বিএনপির নেতারা দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানান।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।