বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় একই বাড়ির তিন গোয়ালঘর থেকে ৮ গরু চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় একই বাড়ির তিন গোয়ালঘর থেকে ৮ গরু চুরি

প্রতিকী ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জলের বাড়ি থেকে এক রাতেই আটটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাড়িটির পৃথক তিনটি গোয়ালঘর থেকে সেলিম মিয়া, নাছির উদ্দিন ও শারীরিক প্রতিবন্ধী জুয়েল মিয়ার গরুগুলো চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় সেলিম মিয়া বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পৌরসদরের চর পাকুন্দিয়া পর্দানী বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে চোরের দল বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে শারীরিক প্রতিবন্ধী জুয়েল মিয়ার গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি বাছুরসহ একটি গাভি নিয়ে যায়। এরপর চা-বিক্রেতা নাছির উদ্দিনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু এবং সবশেষে সেলিম মিয়ার গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু নিয়ে যায়।

ভোরের দিকে চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেন। তবে চুরি যাওয়া গরুগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আমি গোয়ালঘরের পাশেই রাতে ঘুমিয়েছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভাঙার পর দেখি গোয়ালঘরে গরু নেই। পরে বুঝতে পারি, গরুগুলো চুরি হয়ে গেছে।’

অন্য ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমার গোয়ালঘরের তালা কেটে চারটি গরু নিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

একই বাড়ির বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক অপু বলেন, ‘আমিসহ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাজহারুল হক উজ্জল, সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা বিএনপির সদস্য স্বপন মিয়া এবং পৌর যুবদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন একই বাড়ির বাসিন্দা। এমন একটি বাড়ি থেকে এক রাতে আটটি গরু চুরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা বিএনপির সদস্য স্বপন মিয়া বলেন, ‘পৌরসদর বাজারের এত কাছাকাছি এলাকায় এমন চুরির ঘটনায় আমরা হতবিহ্বল। ভুক্তভোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাই।’

একই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন, গ্রামে বেড়াতে আসা বিল্লাল হোসেন ও অটোরিকশাচালক শরীফ মিয়াসহ স্থানীয় অনেকেই চুরির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, গোয়ালঘরের পাশেই মানুষ ঘুমিয়ে থাকার পরও গরু চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও তৎপরতা দাবি করেন।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘পৌরসদরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গরু চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনায় কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে’—এমন ধারণা তাঁর রয়েছে। তবে এ বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ তিনি উল্লেখ করেননি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘গরু চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।’

ভৈরবে বুকের ভেতর লুকিয়ে হাজার ইয়াবা, নারী আটক

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
ভৈরবে বুকের ভেতর লুকিয়ে হাজার ইয়াবা, নারী আটক

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পারভীন আক্তার (৩৪) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভৈরবপুর এলাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর পশ্চিম পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের টোল প্লাজার সামনে এ অভিযান চালানো হয়।

আটক পারভীন আক্তার ঢাকার উত্তর খান থানার চামুর খান এলাকার বাসিন্দা। তিনি মনির হোসেনের স্ত্রী এবং মো. বাবুলের মেয়ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুরের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে পারভীন আক্তারের কাছ থেকে অ্যামফিটামিনযুক্ত কমলা রঙের ১ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ইয়াবাগুলো তাঁর বুকের ভেতর বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় ছিল। স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো একটি সাদা কাগজের প্যাকেটের ভেতর পাঁচটি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলিপ্যাকে ইয়াবাগুলো রাখা ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০টি করে মোট ১ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ১০০ গ্রাম বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

এ ঘটনায় পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ভৈরব থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার থানার ঘাট হয়ে টোক, কাপাসিয়া ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের পাঠানো ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, কটিয়াদী উপজেলার মহাসড়ক বাসস্ট্যান্ড থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার থানার ঘাট হয়ে টোক, কাপাসিয়া এবং রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত প্রধান সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিষয়টি বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত চিঠিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।

এদিকে, সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ার সঙ্গে ঢাকা এবং আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়াবাসীর প্রত্যাশা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে।

স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেলেন দীপু মনি

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর মেয়ে তানি দিপাবলি নেওয়াজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ নেত্রীর স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুতে তাঁর দাফন ও পারিবারিক কাজে অংশ নেওয়ার জন্য এই প্যারোলের আবেদন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাঁর চার দিনের প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল।

এদিকে বাবার মরদেহ ঢাকায় রেখে মায়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল থেকেই মুন্সীগঞ্জে দৌড়ঝাঁপ করেন তানি দিপাবলি। জানা গেছে, দীপু মনি প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মেয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে প্রবেশ করেন। কারাগার থেকে বের হয়ে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে দুপুর পৌনে ২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিমের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।

আইনজীবী জানান, প্রথমে দীপু মনির চার দিনের প্যারোল চাওয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।



Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41