কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় কৃষক-পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার
পাটের সোনালি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং বিদেশি পাটবীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেন, দেশীয় পাটবীজের মান উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বীজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় অংশ নেওয়ার পর অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে যে পাটবীজ আমদানি করা হয়, তার সমমানে দেশীয় তোষা-৯ জাতের পাটবীজ উন্নয়নে গবেষণা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করা, যাতে বিদেশি বীজের ওপর নির্ভরশীলতা কমে এবং দেশীয় বীজ দিয়েই কৃষকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশীয় পাটবীজ থেকে উৎপাদিত পাট পরিপক্ব হতে প্রায় ১২০ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে ভারতীয় বীজের ক্ষেত্রে সময় লাগে প্রায় ১০০ দিন। এ সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে গবেষকরা কাজ করছেন, যাতে কম সময়ে অধিক উৎপাদনশীল ও মানসম্পন্ন পাট উৎপাদন সম্ভব হয়।
কাঁচা পাট রপ্তানির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের পাটভিত্তিক শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত কাঁচামাল নিশ্চিত করতে সরকার কাঁচা পাট রপ্তানিকে নীতিগতভাবে নিরুৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গত বছরের মতো চলতি মৌসুমেও কৃষকরা পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
অনুষ্ঠানে সমাজের পিছিয়ে পড়া ১৮ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে মোট ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে আরও পাঁচজন নারীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড়ে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) ভোরে স্থানীয় জেলেরা ধনু নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করলে সঙ্গে থাকা স্বজন ও সহযাত্রীরা সেটি নিখোঁজ পর্যটক শফিকুল ইসলাম তুলুর (২৬) বলে শনাক্ত করেন।
নিহত শফিকুল ইসলাম তুলু গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কান্দানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হাবিবুর রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) গাজীপুর থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি পর্যটক দল ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নিকলী উপজেলার বেরিবাঁধ এলাকা থেকে মিঠামইন হাওরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া হাওর এলাকায় নৌকার ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
এ সময় নৌকার মাঝি ইঞ্জিন মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকায় কয়েকজন পর্যটক হাওরের পানিতে গোসল করতে নামেন। গোসল শেষে সবাই নৌকায় ফিরে এলেও শফিকুল ইসলাম তুলু আর ফিরে আসেননি। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে বিষয়টি নিকলী থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শহীদ উল্লাহ নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
এরপর নিকলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, কিশোরগঞ্জ থেকে আসা ডুবুরি দল এবং স্থানীয় লোকজন দুই দিন ধরে হাওরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার ভোরে স্থানীয় জেলেরা ধনু নদীতে মাছ ধরার সময় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। সকাল ৬টার দিকে নিকলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পরে মরদেহটি ফায়ার সার্ভিস ঘাটে নিয়ে এলে সঙ্গে থাকা কয়েকজন পর্যটক সেটি শফিকুল ইসলাম তুলুর বলে শনাক্ত করেন।
নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, তিনি যেন শিগগিরই সুস্থ হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যক্রম ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেন।
এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, সহসভাপতি লুৎফুর হক টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বলসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. আসাদুজ্জামান মুকুল। পরে মাওলানা আবু সাইদ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array