মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কাঁঠাল গাছ থেকে পড়ে জিনু ব্যাপারী (৫৫) নামে এক ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার নারান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জিনু ব্যাপারী উপজেলার নারান্দী গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিনু ব্যাপারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ফলের ব্যবসা করতেন। সোমবার বিকেলে নিজ গ্রামের একটি কাঁঠাল গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়তে ওঠেন। আগের রাতের বৃষ্টিতে গাছটি ভেজা থাকায় একপর্যায়ে তাঁর পা পিছলে যায়। এতে তিনি গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই জিনু ব্যাপারীর মৃত্যু হয়েছিল।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর ধনু নদী থেকে মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
নিকলীতে নিখোঁজের একদিন পর ধনু নদী থেকে মাদরাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

Exif_JPEG_420

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান।

নিহত তাওহীদ হোসেন উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের পূর্ব টেংগুরিয়া গ্রামের গুলজার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাওহীদ নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। আশপাশের গ্রাম, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রাতভর উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে সেটি তাওহীদের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি পরিবার ও পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকার সাহায্যে মরদেহটি উদ্ধার করে।

সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, “তাওহীদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।”

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

কিশোরগঞ্জে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি ও আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪।

র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানার বড় বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মামলা নম্বর-১৮(৪)/২০১৪, জিআর নম্বর-১৩৪(২)/২০১৪-এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি পল্টু মিয়া ওরফে সুমন (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার রাজকুন্তি গ্রামের মৃত শামছু মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-বি ধারার মামলায় আদালত কর্তৃক তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। রায়ের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৪ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে দুর্দশা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বজ্রপাতে নিহত প্রবাসী রাসেলের পরিবারে দুর্দশা

সৌদি আরবে আকস্মিক বজ্রপাতে নিহত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার পরিবারের সদস্যরা চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারি সহায়তার অধিকাংশ আশ্বাস এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সীমাহীন আর্থিক সংকটে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

একসময় প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন রাসেল মিয়া। তাঁর উপার্জনেই চলত সংসার। কিন্তু আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারটি যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অনেক দিনই চুলায় আগুন জ্বলে না। খাদ্যসংকটের কারণে পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। চলমান বর্ষা মৌসুমে ভাঙাচোরা একটি ঘরে চার সন্তানকে নিয়ে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন রাসেলের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন।

সরেজমিনে কথা হলে শাহানাজ পারভীন বলেন, “স্বামী চলে যাওয়ার ১৬ দিন পর আমার মাও মারা যান। এখন আমার মা-বাবা, ভাই-বোন—কেউ নেই। চার সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। নানা দুশ্চিন্তায় আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”

রাসেলের মা মোমেনা আক্তার বলেন, অনেক দিন তিন বেলার পরিবর্তে এক বেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে পরিবারটির। চরম দারিদ্র্যের কারণে শিশুদের লেখাপড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লেখাপড়ার খরচ বহন তো দূরের কথা, নিয়মিত খাবারের সংস্থান করাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান রাসেল মিয়া। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

ঈদ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা নিহতের বাড়িতে গিয়ে জামাকাপড়, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। সে সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তবে পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি। ফলে দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবারটি।

প্রতিবেশী আবু রায়হানসহ স্থানীয় অনেকেই বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়; পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি। কারণ একজন প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর পরিবারকে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

হোসেনপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবার বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোরও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। একই সঙ্গে চার শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “একজন প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতেরও মৃত্যু। রাসেল মিয়ার চার সন্তান আজও অপেক্ষা করছে—রাষ্ট্র ও সমাজের সহযোগিতায় অন্তত তাদের বাবার স্বপ্নগুলো যেন বেঁচে থাকে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সরকারিভাবে পরিবারটিকে সাময়িক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে আমরা কাজ করছি।”


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41