শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দশপাখী কারারবাড়ি বালুর মাঠে দশপাখী যুব সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন আহমেদ বকুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “কাবাডি শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে তরুণ সমাজকে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়া চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন প্রয়োজন। সরকার দেশীয় খেলাধুলার প্রসারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। গ্রামের মাঠগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।”

উপজেলার দশপাখী কারারবাড়ি বালুর মাঠে আয়োজিত এই খেলাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক মাঠে জড়ো হন। বাঁশি, ঢাক-ঢোল, করতালি ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

খেলার উদ্বোধন করেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন। তিনি বলেন, “গ্রামীণ খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ শামসুল আরেফিন তারা, কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ উদ্দিন আহমেদ সবুজ ভূঞা, লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বাবুল আফরাদ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক বাবুল।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লোহাজুরী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। খেলোয়াড়দের কৌশলী আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দ্রুতগতি এবং চমৎকার নৈপুণ্যে দর্শকরা বারবার করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন। খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করায় মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের জাকির হোসেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সর্বোচ্চ আট পয়েন্ট অর্জন করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে টিকিয়ে রাখা, তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আব্দুল্লাহ। খেলা পরিচালনা করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ, কটিয়াদী উপজেলা শাখার সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) হুমায়ূন কারার কাজল এবং বিএনপি নেতা মো. সোলায়মান।

কটিয়াদীতে গ্যাস পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ, চুন কারখানাকে ঘিরে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে গ্যাস পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ, চুন কারখানাকে ঘিরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চচাপে গ্যাস নিঃসরণ হওয়ায় নদের পানির ওপর সারাক্ষণ বুদ্‌বুদ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র গ্যাসের গন্ধ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, নদের তীরে একটি চুন তৈরির কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে এই প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি পাইপলাইনের একটি ওয়েল্ডিং জয়েন্টে লিকেজ সৃষ্টি হলে সেখান থেকে উচ্চচাপে গ্যাস বের হতে থাকে। পানির নিচ থেকে অবিরাম বুদ্‌বুদ উঠতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সহযোগিতায় গত জুন মাসের শুরুতে নদের তীরে ১৭ শতাংশ জমির ওপর একটি চুন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়। কারখানাটির মালিক সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাজনামহল এলাকার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। জমি ব্যবহার ও যাতায়াতের জন্য পৃথক দুটি চুক্তিপত্র করা হলেও সেখানে অবৈধ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার শর্ত ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতের আঁধারে নদের তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে লিকেজ হওয়া অংশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন পর নদের পানিতে গ্যাসের বুদ্‌বুদ ও তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠার পর চুন কারখানাটি বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।

কাজীরচর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও বিল্লাল মিয়া জানান, প্রায় এক মাস আগে সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি কারখানায় গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের তিতাস গ্যাসের কর্মী বলে পরিচয় দেন। এর কিছুদিন পরই পাইপলাইন থেকে গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

লিকেজ মেরামতের দায়িত্বে থাকা নোমান মিয়া বলেন, পাইপলাইনের ওয়েল্ডিং অংশে বড় ধরনের লিকেজ হওয়ায় মেরামতকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে চুন তৈরির কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চুন কারখানার মালিক বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি ময়মনসিংহ জোনের আওতাধীন। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তারাই দিতে পারবেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “গ্যাস লিকেজের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিকেজের পাশেই একটি চুন তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানাটির বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, অবৈধ গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইনে লিকেজের ঘটনা ঘটেছে কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পাইপলাইন মেরামত, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মাদকের বিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
মাদকের বিস্তার রোধে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন, সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার নয়াপাড়ায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদকমুক্ত সুস্থ-সুন্দর সমাজ গড়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ‘এলাকার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে নয়াপাড়ার প্রধান সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নারী-পুরুষ, যুবসমাজ, শিশু, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন।

সমাজসেবক মো. আসাদুজ্জামান খোকনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি বাছির উদ্দিন রিপন, বাংলাদেশ মানব কল্যাণ সংগঠনের সম্পাদক মো. আবু বকর রেনু, সাবেক কাউন্সিলর সাদমিন, সমাজসেবক মো. সেলিম রেজা, নাসির উদ্দিন, লোকমান মিয়া, পৌর বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মো. রুবেল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো. হাবিবুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

তারা আরও বলেন, শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদক ব্যবসার মূল হোতা ও পাইকারি কারবারিদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকরের কারণে যেন কোনো মাদক কারবারি সহজে ছাড় না পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রতি শুক্রবার স্থানীয় মসজিদে মাদকবিরোধী আলোচনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে স্থানীয় যুবসমাজের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

কিশোরগঞ্জে সাড়ে পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে সাড়ে পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিহত শিশু সাফওয়ান (সাড়ে পাঁচ মাস) কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া গাছবাজার এলাকার পুরাতন থানার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিঠুন মিয়ার ছেলে।

নিহত শিশুর মা শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সাফওয়ানকে গত ৩০ জুলাই রাত দেড়টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ওই সময় বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতা চাইলেও দ্রুত সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বজনদের দাবি, শিশুটিকে দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও দায়িত্বে থাকা নার্স শামিমা আক্তার তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি। পরে শিশুটির অবস্থার আরও অবনতি হলে মেডিকেল অফিসার ডা. পাপিয়া আক্তার, আইডি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাইবি এবং নার্স শামিমা আক্তার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার অংশ হিসেবে একটি ইনজেকশন প্রয়োগের পরপরই শিশুটির শরীরে কাঁপুনি শুরু হয় এবং মুখ নীলচে হয়ে যায়। এ সময় শিশুটির মা প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে বাইরে গেলে ফিরে এসে জানতে পারেন, তার সন্তান মারা গেছে।

শারমিন আক্তার বলেন, “আমার নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে বিচার চাই।”

ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, দুই কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41