কুলিয়ারচরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাবাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
প্রতীকী ছবি
বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথি আপ্যায়নের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা ছিল বরযাত্রীর। ঠিক সেই সময় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আব্দুল মান্নান ও নাসিমা বেগম দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মাহফুজ আহমেদ অন্তর (২২)-এর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
বিয়েকে কেন্দ্র করে বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছিল। বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এ বিয়ের আয়োজন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিভাবকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন। অনাদায়ে তাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
পাশাপাশি কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array