রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কুলিয়ারচরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাবাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুলিয়ারচরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাবাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রতীকী ছবি

বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথি আপ্যায়নের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা ছিল বরযাত্রীর। ঠিক সেই সময় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বন্ধ হয়ে যায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী আব্দুল মান্নান ও নাসিমা বেগম দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মাহফুজ আহমেদ অন্তর (২২)-এর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

বিয়েকে কেন্দ্র করে বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়েছিল। বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন, তাদের ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, কনের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এ বিয়ের আয়োজন বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিভাবকের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন। অনাদায়ে তাকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

পাশাপাশি কিশোরীর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।

কুলিয়ারচরে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, গণধোলাইয়ের পর আটক ১

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, গণধোলাইয়ের পর আটক ১

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গভীর রাতে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এক সদস্য। পরে গণপিটুনির পর তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চুরির উদ্দেশ্যে খুলে ফেলা একটি ট্রান্সফরমার, এর কোর ও কয়েলসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের রজব আলীর বাড়ির পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্থাপিত ১৫ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা চালায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র।

চোরেরা প্রথমে বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন (এইচটি) লাইন বিচ্ছিন্ন করে ট্রান্সফরমারটি নিচে নামায়। পরে ট্রান্সফরমারের ঢাকনা খুলে ভেতরের কোর ও কয়েল খুলে নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে পড়ে।

এ সময় গ্রামবাসী এগিয়ে এসে ধাওয়া দিলে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে মো. শরীফ (২৪) নামে একজনকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ট্রান্সফরমারের খালি বডি, কোর ও কয়েল জব্দ করে। উদ্ধার হওয়া আলামতের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শরীফ ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে আফজাল হোসেন (২৫), রোহান হোসেন (১৯) এবং আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। পুলিশ ধারণা করছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক তার চুরির সঙ্গে জড়িত।

নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম-প্রকৌশলী) ইমরান হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ট্রান্সফরমার বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি কিংবা অবৈধভাবে দখলে রাখা বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮-এর ৩৫ ও ৩৬ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। জনসচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কাউকে বিদ্যুৎ স্থাপনায় কাজ করতে দেখলে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগ বা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটক আসামিকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির প্রবণতা বেড়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান এবং রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।


কটিয়াদীতে গ্যাস পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ, চুন কারখানাকে ঘিরে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে গ্যাস পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ, চুন কারখানাকে ঘিরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইনে বড় ধরনের লিকেজ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চচাপে গ্যাস নিঃসরণ হওয়ায় নদের পানির ওপর সারাক্ষণ বুদ্‌বুদ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র গ্যাসের গন্ধ। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে, নদের তীরে একটি চুন তৈরির কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে এই প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি পাইপলাইনের একটি ওয়েল্ডিং জয়েন্টে লিকেজ সৃষ্টি হলে সেখান থেকে উচ্চচাপে গ্যাস বের হতে থাকে। পানির নিচ থেকে অবিরাম বুদ্‌বুদ উঠতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সহযোগিতায় গত জুন মাসের শুরুতে নদের তীরে ১৭ শতাংশ জমির ওপর একটি চুন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়। কারখানাটির মালিক সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার বাজনামহল এলাকার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার। জমি ব্যবহার ও যাতায়াতের জন্য পৃথক দুটি চুক্তিপত্র করা হলেও সেখানে অবৈধ কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করার শর্ত ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতের আঁধারে নদের তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলেও প্রবল বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে লিকেজ হওয়া অংশ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন পর নদের পানিতে গ্যাসের বুদ্‌বুদ ও তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ ওঠার পর চুন কারখানাটি বন্ধ করে মালিক ও কর্মচারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।

কাজীরচর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও বিল্লাল মিয়া জানান, প্রায় এক মাস আগে সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি কারখানায় গ্যাস-সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের তিতাস গ্যাসের কর্মী বলে পরিচয় দেন। এর কিছুদিন পরই পাইপলাইন থেকে গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

লিকেজ মেরামতের দায়িত্বে থাকা নোমান মিয়া বলেন, পাইপলাইনের ওয়েল্ডিং অংশে বড় ধরনের লিকেজ হওয়ায় মেরামতকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ২০ থেকে ২৫ জন কর্মী নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে চুন তৈরির কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চুন কারখানার মালিক বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিতাস গ্যাসের কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি ময়মনসিংহ জোনের আওতাধীন। ফলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তারাই দিতে পারবেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “গ্যাস লিকেজের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। লিকেজের পাশেই একটি চুন তৈরির কারখানা রয়েছে। কারখানাটির বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে, অবৈধ গ্যাস-সংযোগ নেওয়ার চেষ্টার সময় পাইপলাইনে লিকেজের ঘটনা ঘটেছে কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পাইপলাইন মেরামত, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কটিয়াদীতে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল

গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নে বর্ণাঢ্য কাবাডি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দশপাখী কারারবাড়ি বালুর মাঠে দশপাখী যুব সমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলার সাবেক বিআরডিবি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন আহমেদ বকুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “কাবাডি শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে তরুণ সমাজকে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়া চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের শিক্ষা দিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের খেলাধুলার আয়োজন প্রয়োজন। সরকার দেশীয় খেলাধুলার প্রসারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। গ্রামের মাঠগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে।”

উপজেলার দশপাখী কারারবাড়ি বালুর মাঠে আয়োজিত এই খেলাকে ঘিরে দুপুরের পর থেকেই আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এবং ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক মাঠে জড়ো হন। বাঁশি, ঢাক-ঢোল, করতালি ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

খেলার উদ্বোধন করেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন। তিনি বলেন, “গ্রামীণ খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ শামসুল আরেফিন তারা, কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ উদ্দিন আহমেদ সবুজ ভূঞা, লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বাবুল আফরাদ এবং ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুক বাবুল।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরীফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লোহাজুরী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মাসুদ রানা, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর। খেলোয়াড়দের কৌশলী আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দ্রুতগতি এবং চমৎকার নৈপুণ্যে দর্শকরা বারবার করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন। খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করায় মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ।

প্রতিযোগিতায় উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাঘবের গ্রামের জাকির হোসেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সর্বোচ্চ আট পয়েন্ট অর্জন করে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। পরে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে টিকিয়ে রাখা, তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আব্দুল্লাহ। খেলা পরিচালনা করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অধিকার পরিষদ, কটিয়াদী উপজেলা শাখার সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) হুমায়ূন কারার কাজল এবং বিএনপি নেতা মো. সোলায়মান।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41