বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

লাইসেন্স পেতে ১২–১৫ হাজার টাকা, ফেল করেও পাসের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লাইসেন্স পেতে ১২–১৫ হাজার টাকা, ফেল করেও পাসের অভিযোগ

দেশের সড়কে প্রতিদিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া নথি দিয়ে আবেদন, পরীক্ষাকেন্দ্রে দালালদের প্রভাব, অস্বচ্ছ পদ্ধতি ও অস্বাভাবিক পাসের হারের চিত্র উঠে এসেছে এক অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে পাওয়া ১৬টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন ফরমের প্রতিটিতেই জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বাইরে একাধিক ভুয়া নথি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রাজধানীর চারটি মেট্রো সার্কেল ও ঢাকা জেলা সার্কেলের ১০টি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৪ হাজার ৯৩০ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৪৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষাগুলোতে পাসের হার ৮৪ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের পরীক্ষার ফলাফলও একই ধরনের উচ্চ পাসের হারের ইঙ্গিত দেয়।

শুধু ভুয়া নথি কিংবা অস্বাভাবিক পাসের হার নয়, লাইসেন্স দেওয়ার নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক দালালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি লাইসেন্স করিয়ে দিতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে বিআরটিএর জন্য ‘টেবিল খরচ’ হিসেবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন তাঁরা। পরীক্ষায় ফেল করা প্রার্থীর ফলাফল পরিবর্তন করে পাস করানোর তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছে অনুসন্ধানী সূত্র। তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষার্থীর পরিচয় যাচাই, পরীক্ষা গ্রহণের ভিডিও সংরক্ষণ এবং ফলাফল তৈরির প্রতিটি ধাপে নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো পরীক্ষক বা বোর্ডের অধীনে ধারাবাহিকভাবে অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে তার কারণও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, শুধু দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; দালালদের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা-ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

অনুসন্ধানে পাওয়া ১৬টি আবেদন ফরমের মধ্যে ১১টি অপেশাদার ও পাঁচটি পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন। বিধি অনুযায়ী, অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদনে এনআইডির পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল এবং মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ডোপ টেস্টের রিপোর্টও বাধ্যতামূলক।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাঁচটি পেশাদার লাইসেন্সের আবেদনের কোনোটিতেই আবেদনকারীর নামের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের নামের মিল পাওয়া যায়নি। মেডিক্যাল সার্টিফিকেটে চিকিৎসকের সিল থাকলেও স্বাক্ষর ছিল না। সংশ্লিষ্ট পাঁচ আবেদনকারীর কেউই ডোপ টেস্টের জন্য হাসপাতালে যাননি বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ১১টি অপেশাদার লাইসেন্সের আবেদনের কয়েকটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সঠিক থাকলেও মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও ইউটিলিটি বিলের অনুলিপি ভুয়া পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন করার সময় অনলাইনে জমা দেওয়া নথিগুলো পরীক্ষার দিন উপস্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব নথি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বিআরটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও ডোপ টেস্টের রিপোর্টের সত্যতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা তাঁদের হাতে নেই। বর্তমানে ঢাকার মাত্র একটি হাসপাতালের ডোপ টেস্টের রিপোর্ট অনলাইনে যাচাই করা যায়। অন্য হাসপাতালের রিপোর্ট যাচাইয়ে জটিলতা রয়েছে।

ডোপ টেস্টের জন্য বিআরটিএর দেওয়া চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ইমেইলে রিপোর্ট পাঠানোর অনুরোধ থাকলেও হাসপাতালগুলো থেকে তা পাঠানো হচ্ছে না। ফলে আবেদনকারীদের আপলোড করা রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, সমন্বিত অনলাইন যাচাইব্যবস্থা চালু হলে জাল নথি শনাক্ত করা সহজ হবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সনদ ও ডোপ টেস্টের রিপোর্ট যাচাইয়ের জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রাজধানী ও ঢাকা জেলার পাঁচটি সার্কেলে অক্টোবরের বিভিন্ন দিনে অনুষ্ঠিত ১০টি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশের বেশি উত্তীর্ণ হয়েছেন। সর্বোচ্চ পাসের হার ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ঢাকা মেট্রো-১ (মিরপুর) সার্কেলের জোয়ারসাহারা কেন্দ্রে ১৪ অক্টোবর ১ হাজার ৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হন ৯০৬ জন, পাসের হার ৯০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। একই কেন্দ্রে ১৮ অক্টোবর ৯৪৪ জনের মধ্যে ৮৬৯ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

ঢাকা মেট্রো-২ (ইকুরিয়া) সার্কেলের তেজগাঁও বিআরটিসি বাস ডিপো কেন্দ্রে ৫ অক্টোবর ৩৫৫ জনের মধ্যে ৩০৩ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। একই কেন্দ্রে ১২ অক্টোবর ৩৬২ জনের মধ্যে ৩২০ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

ঢাকা মেট্রো-৩ (দিয়াবাড়ী) সার্কেলের মিরপুর-১২ নম্বর বিআরটিসি বাস ডিপো কেন্দ্রে ৭ অক্টোবর ৪২১ জনের মধ্যে ৩৮০ জন এবং ১৪ অক্টোবর ৪১০ জনের মধ্যে ৩৭৮ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার যথাক্রমে ৯০ দশমিক ২৬ ও ৯২ দশমিক ২০ শতাংশ।

ঢাকা মেট্রো-৪ (পূর্বাচল) সার্কেলের তেজগাঁও কেন্দ্রে ৮ অক্টোবর ৪২৮ জনের মধ্যে ৩৭৪ জন এবং ১৪ অক্টোবর ৪২৯ জনের মধ্যে ৪০৬ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ৩৮ ও ৯৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

ঢাকা জেলা সার্কেলের গাবতলী বিআরটিসি বাস ডিপো কেন্দ্রে ১৩ অক্টোবর ৪১০ জনের মধ্যে ৩৪৭ জন এবং ১৮ অক্টোবর ২১৩ জনের মধ্যে ১৯০ জন উত্তীর্ণ হন। পাসের হার যথাক্রমে ৮৪ দশমিক ৬৩ ও ৮৯ দশমিক ২০ শতাংশ।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বোর্ড রয়েছে। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা হয় তিন ধাপে—লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী প্রথম দুই ধাপে উত্তীর্ণ হলেও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অনেকে অনুত্তীর্ণ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দালালচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বা তদবির ছাড়া নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা দিতে যাওয়া প্রার্থীদের কেউ কেউ শেষ ধাপে বাদ পড়েন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এমনকি শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের কার্ডে ফেল লেখা থাকলেও পরে বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ দেখানোর তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে অনুসন্ধানী সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরীক্ষায় অনিয়মের পেছনে দালালচক্রের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের সুপারিশও ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়, উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও সুপারিশ আসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সুপারিশের ভিত্তিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখাতে হয় বলে দাবি সূত্রটির।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য রয়েছে ড্রাইভিং কমপিটেন্সি টেস্ট বোর্ড। এর চেয়ারম্যান হন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। সদস্য হিসেবে থাকেন পুলিশ, চিকিৎসা, সড়ক ও জনপথ এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। সংশ্লিষ্ট মোটরযান পরিদর্শক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বোর্ডের সব সদস্য পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন না; কেউ কেউ অধীনস্থ ব্যক্তিদের পাঠান। অথচ উত্তীর্ণদের তালিকা অনুমোদনের জন্য সদস্যদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। ফলে পরীক্ষা শেষে তালিকা নিয়ে সদস্যদের কার্যালয়ে গিয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন বিআরটিএর কর্মচারীরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বোর্ডের প্রতিনিধিদের আলাদা কক্ষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে মূলত মোটরযান পরিদর্শকরাই পরীক্ষা পরিচালনা করেন।

একাধিক দালালের দাবি, একটি লাইসেন্স করিয়ে দিতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অথচ সরকারি ফি অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২ হাজার ৭৭২ টাকা। অপেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ ১০ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর।

দালালদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি ফির বাইরে নেওয়া অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট মোটরযান পরিদর্শকদের কাছে যায়, যা তাঁদের ভাষায় ‘টেবিল খরচ’। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এই অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় পাস করানোসহ লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অর্থ লেনদেনের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ২৫ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বিআরটিএর সেবায় দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেশের সেবা খাতগুলোর মধ্যে দুর্নীতির দিক থেকে বিআরটিএ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিআরটিএর সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ঘুষ দেওয়ার হার ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে ঘুষের হার ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ, শহরাঞ্চলে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে দুর্নীতির শিকার হওয়ার হার গ্রামাঞ্চলে ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘দেশের সড়কে আড়াই লাখ ভারী যানবাহন চলে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ভারী যানবাহনের জন্য দেড়জন চালক প্রয়োজন। সে হিসেবে ৩ লাখের বেশি দক্ষ চালক প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন করেও দক্ষ চালক তৈরি হয়নি। এর জন্য দায়ী বিআরটিএ ও বিআরটিসি। সরকারি এ দুই প্রতিষ্ঠানই চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। দক্ষ চালক তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কোনো ভূমিকা দেখছি না।’

বিআরটিএর পরীক্ষা পদ্ধতির ত্রুটিও দক্ষ চালক তৈরির পথে বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনে ভুয়া নথি ব্যবহারের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ও ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ঠেকাতে পরীক্ষাকেন্দ্রেই নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান বিআরটিএ চেয়ারম্যান।

‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’- হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’- হোসেনপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য এবং ‘পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) হোসেনপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকেরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বক্তব্যে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নিসচা হোসেনপুর উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ও সাংবাদিক সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও নিসচার সদস্য সাংবাদিক মাহফুজ রাজা, উপজেলা শাখার সদস্য ও সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম এবং ওমর ফারুক খান জনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শাখার সদস্য কবি হাদিউল ইসলাম, সাংবাদিক উজ্জ্বল কুমার সরকার, সাগর মিয়া, এস এম রিফাত, এস কে শাহীন নবাব, রিফাত মিয়া, ফরিদা পারভিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন নাগরিকেরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আকিল উদ্দিন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বহু পরিবার আর্থিক ও মানসিক সংকটের মুখে পড়ছে। তাই সড়ক নিরাপদ করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়। চালক, যাত্রী, পথচারী, পরিবহনমালিক ও সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তারা বলেন, যাত্রীদেরও চলন্ত গাড়িতে সতর্ক থাকতে হবে এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহার, গাড়িচালকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং সড়কে প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপদে সড়ক পারাপারে সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

তাঁদের মতে, ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শুধু দিবস পালন করেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা যাবে না; বরং সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রতিদিনের জীবনে চর্চা করতে হবে। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা একটি সচেতনতামূলক র‍্যালিতে অংশ নেন। পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসব লিফলেটে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সতর্কতার সঙ্গে সড়ক ব্যবহার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।

নিসচা হোসেনপুর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তাঁদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। সামান্য অসতর্কতা যেন কোনো পরিবারের শোকের কারণ না হয়, সে জন্য সড়কে চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্বশীল আচরণ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই হোসেনপুরসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা সম্ভব।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’- মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’- মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন’—নিজের এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় এমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সমাজের ভালো মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতির অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এসব কথা আমি আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে বলেছি। তারা তখন এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, সমাজের ভালো লোকের নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আশা করি, এ অবস্থার অবসান হবে। বর্তমান সরকার সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছে।’

নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা নেয়নি। নির্বাচনব্যবস্থায় আমূল সংস্কার প্রয়োজন। সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে বলে জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু হয়েছে।

দ্বীপজেলা ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাসসম্পদ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, জেলাটিতে আরও বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে তাঁরা আশা করছেন। এসব গ্যাস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকার বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় একটি সম্ভাবনা ভোলায় রয়েছে। ভোলার গ্যাসের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের ন্যায্য অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় নিখোঁজের তিন দিন পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১১ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় নিখোঁজের তিন দিন পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে আব্দুল খালেক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখার গ্রামের আলী আজ্জমের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুল খালেক ওই গ্রামের মৃত জুনাব আলীর ছেলে। তাঁর বাবার নাম জমিরউদ্দীন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা আলী আজ্জমের বসতঘরের পাশের ডোবায় মানুষের মতো কিছু একটা ভাসতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) ইমাম হাসান ও উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।

নিহতের ছেলে সোহাগ মিয়া মরদেহটি তাঁর বাবার বলে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর বাবা নশু মার্কেটে গ্রাম্য চিকিৎসক আলমের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। তিন দিন পর বৃহস্পতিবার তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় আব্দুল খালেকের হাতের মুঠোয় একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ডোবায় পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।