শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ ১৪৩২
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ ১৪৩২

হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশনে চাঁদাবাজি: যৌথ অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশনে চাঁদাবাজি: যৌথ অভিযানে যুবক গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি ও মালিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বিল্লাল হোসেন শ্রাবণ (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার রামপুর মোড়লবাড়ী এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ইশা ফিলিং স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল হোসেন শ্রাবণ তার সহযোগীদের নিয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করতে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এতে ফিলিং স্টেশনের স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আরও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা জোরপূর্বক তেলের পাম্প বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এ ছাড়া একই দিন রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে বিল্লাল হোসেন শ্রাবণ তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ফিলিং স্টেশনের মালিককে ফোন করে গালিগালাজ করেন এবং চাঁদা দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে তিনি পিস্তল দিয়ে মালিক ও কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হোসেনপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

যমুনায় হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশি জলকামান, কোনো গুলি ছোড়া হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
যমুনায় হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশি জলকামান, কোনো গুলি ছোড়া হয়নি

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও প্রথম পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।

পরদিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী জলকামানের ওপর উঠে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে। এই সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি বলে পুলিশ ও সরকার নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানায়, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। পুলিশ এই নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, শহীদ হাদীর হত্যার বিচারে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের আইনগত দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সঠিক নয়। সরকার সকল নাগরিককে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ।

সরকার বলেছে, একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আসন্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিন্নাটী বাজারে ভিপি সোহেল এর উপস্থিতিতে ধানের শীষের পক্ষে চা-চক্রে জনসমাগম

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
বিন্নাটী বাজারে ভিপি সোহেল এর উপস্থিতিতে ধানের শীষের পক্ষে চা-চক্রে জনসমাগম

“নাইমা পরছে সোহেল ভাই, মাজহার ভাইয়ের ভয় নাই—
নেতা মোদের সোহেল ভাই, ধানের শীষের ভয় নাই।”

এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিন্নাটী বাজার এলাকা। কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা ও মাঠপর্যায়ের খোঁজখবর নিতে ঢাকা  হতে কিশোরগঞ্জ ফেরার পথে বিন্নাটী বাজারে অবস্থিত ধানের শীষের আঞ্চলিক নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত হন খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল।

নেতার আকস্মিক আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঢল নামে। শুরুতে একটি ছোট পরিসরের চা-চক্র থাকলেও তা দ্রুতই বিশাল জনসমাগমে রূপ নেয়।

খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন কিশোরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি, মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা, সহসভাপতি শেখ ফারুকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু স্থানীয় নেতাকর্মী।

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন।

শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানে ভৈরবে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানে ভৈরবে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় ভৈরব টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান স্টল স্থাপন করে।

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল প্রাণ গ্রুপ, আরএফএল গ্রুপ, এলিন ফুড প্রোডাক্টস, অলিপুর হবিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, আরগন স্পিনিং লিমিটেড, এফডিবি হোন্ডা, সারভিক বিপিও, ডা. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, খাজা ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রি, খাজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রি, মেসার্স জিলানী ফ্লাওয়ার মিলস অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস, মাক্কুল মোল্লা ফুড প্রোডাক্টস, এ জেড এইচ রি-রোলিং অ্যান্ড আয়রন ফ্যাক্টরি, বি-বাড়িয়া ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মোটরস, ভৈরব কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল মেন্টর, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিল্ডার্স, ডা. ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং মেসার্স মুজিবুর রি-রোলিং মিলস।

ভৈরব টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুর হক জাবেদ, নরসিংদী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাসিনা ইয়াসমিন এবং ভৈরব বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মো. আবিদুর রহমান খান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল্লাহ, ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন, ভৈরব টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিফ ইনস্ট্রাক্টর মাজহারুল ইসলাম খান, উদ্যোক্তা মো. নুরুল হকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা।

এ সময় বক্তারা বলেন, চাকরি মেলার মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা সহজেই তাদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বক্তারা আরও বলেন, নিয়মিতভাবে চাকরি মেলার আয়োজন করা গেলে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে কর্মমুখী করা সম্ভব হবে, যা সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চাকরি প্রার্থীদের সংযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।