শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে

বাঁচার আকুতি ছিল চোখে, সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাঁচার আকুতি ছিল চোখে, সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ

রক্তাক্ত একটি নিথর দেহ পড়ে ছিল মাঠে। কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি, অথচ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছিল শরীর। আশপাশে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখছিলেন স্থানীয় লোকজন। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিলেন, কেউ দূরত্ব বজায় রেখে তাকিয়ে ছিলেন পৈশাচিক সেই ঘটনার দিকে। কিন্তু জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি কেউ। মানবিকতার ভাষা যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর একসময় নিথর দেহটির নড়াচড়া থেমে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ভিডিও।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায়। সেখানে ভাতিজা আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচা মরম আলীর বিরুদ্ধে।

নিহত আনোয়ার হোসেন একই গ্রামের মৃত সাফি উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত মরম আলী আব্দুল হেকিমের ছেলে। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে কটিয়াদী মডেল থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত চাচা মরম আলীসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার চাচা মরম আলীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস-দরবার হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিঁড়ির সামনের মাঠে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত মরম আলী ও তার ছেলেদের ভয়ে কেউ আহত আনোয়ারের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। দীর্ঘ সময় তিনি মাঠে পড়ে ছিলেন। তখনও তিনি জীবিত ছিলেন এবং ছটফট করছিলেন। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহতের মা শিরিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমি দুপুরে বাড়িতে ছিলাম না। সেই সুযোগে মরম আলী ও তার লোকজন আমাদের বাড়িতে ঢুকে বসতঘর ভাঙচুর করে। পরে আমার ছেলে আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ সময় তারা সেখানে অবস্থান করে কাউকে কাছে আসতে দেয়নি। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, তার ছোট ছেলে বিদেশে থাকেন এবং তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, “বাড়ি ফাঁকা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, “মরম আলী ও আনোয়ার হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার সালিস করেছি। এর আগেও আনোয়ারকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। তখন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত।”

নিহতের ছোট ভাই প্রবাসী সজল বলেন, “পরিকল্পিতভাবেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক কষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত আনোয়ারের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও চুরিসহ নানা অভিযোগ ছিল। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তার প্রতি বিরূপ মনোভাব ছিল। যদিও তারা এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

শোকে স্তব্ধ মিঠামইন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীরের শেষ বিদায়

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
শোকে স্তব্ধ মিঠামইন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীরের শেষ বিদায়

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাময়িকভাবে পদ স্থগিত হওয়া সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাজা শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড মাঠে (কেন্দ্রীয় মাঠ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্থানীয়রা উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক বলে জানিয়েছেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাঈল মিয়া,  জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম (ভিপি) সুমন, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান (জিএস) শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় স্বজন, সহকর্মী ও সমর্থকদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শেষ বিদায়ে উপস্থিত মানুষের অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন এসএম জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে অভিযান: আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে অভিযান: আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালসহ মোট ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত সব জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কটিয়াদী উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে বাট্রা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা।

শুধু নিষিদ্ধ জাল জব্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অভিযান। করগাঁও হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রোফিশিং (বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকার) প্রতিরোধে তদারকি চালানো হয়। পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন অবৈধ বাঁধ এবং বিভিন্ন স্থায়ী প্রতিবন্ধক অপসারণের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৬২টি চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের মোট আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৮৭০ মিটার, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ১০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণ করা হলে বিপুলসংখ্যক পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং দেশীয় ছোট প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই সরকার এসব জালের উৎপাদন, বিক্রয়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা সব নিষিদ্ধ জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর প্রভাব, ইলেকট্রোফিশিংয়ের ভয়াবহতা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বা অবৈধভাবে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

কটিয়াদীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন,
“সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ জাল, ইলেকট্রোফিশিং ও অবৈধ বাঁধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ—দুই কার্যক্রমই সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, করগাঁও হাওর ছাড়াও কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ মাছ শিকার এবং ইলেকট্রোফিশিং প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে এবং দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

হোসেনপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের চরপুমদী গ্রামের কৃতী সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় চরপুমদী হাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সকালে মরহুমের মরদেহ চরপুমদী হাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে পুলিশের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় জাতীয় পতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রের সালাম প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় ইমামের ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের মাধ্যমে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হোসেনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পুমদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মো. সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার জন্য তার সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এলাকায় একজন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক আচরণের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

হোসেনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“মো. সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা এবং জনবান্ধব সরকারি কর্মকর্তা। তার মৃত্যুতে হোসেনপুর একজন দেশপ্রেমিক, সৎ ও মানবিক মানুষকে হারাল। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন,
“একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মুক্তিযুদ্ধ ও কর্মজীবনে তার অবদান হোসেনপুরবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41