মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কটিয়াদীতে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে

বাঁচার আকুতি ছিল চোখে, সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাঁচার আকুতি ছিল চোখে, সাহায্যের হাত বাড়ায়নি কেউ

রক্তাক্ত একটি নিথর দেহ পড়ে ছিল মাঠে। কণ্ঠে ছিল বাঁচার আকুতি, অথচ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে আসছিল শরীর। আশপাশে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখছিলেন স্থানীয় লোকজন। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিলেন, কেউ দূরত্ব বজায় রেখে তাকিয়ে ছিলেন পৈশাচিক সেই ঘটনার দিকে। কিন্তু জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি কেউ। মানবিকতার ভাষা যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর একসময় নিথর দেহটির নড়াচড়া থেমে যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়বিদারক সেই ঘটনার ভিডিও।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচর পাড়াতলা এলাকায়। সেখানে ভাতিজা আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচা মরম আলীর বিরুদ্ধে।

নিহত আনোয়ার হোসেন একই গ্রামের মৃত সাফি উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত মরম আলী আব্দুল হেকিমের ছেলে। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে কটিয়াদী মডেল থানা-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত চাচা মরম আলীসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তার চাচা মরম আলীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস-দরবার হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিঁড়ির সামনের মাঠে আনোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত মরম আলী ও তার ছেলেদের ভয়ে কেউ আহত আনোয়ারের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি। দীর্ঘ সময় তিনি মাঠে পড়ে ছিলেন। তখনও তিনি জীবিত ছিলেন এবং ছটফট করছিলেন। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহতের মা শিরিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমি দুপুরে বাড়িতে ছিলাম না। সেই সুযোগে মরম আলী ও তার লোকজন আমাদের বাড়িতে ঢুকে বসতঘর ভাঙচুর করে। পরে আমার ছেলে আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ সময় তারা সেখানে অবস্থান করে কাউকে কাছে আসতে দেয়নি। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।”

তিনি আরও বলেন, তার ছোট ছেলে বিদেশে থাকেন এবং তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নিহতের বোন সালমা আক্তার বলেন, “বাড়ি ফাঁকা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়ে মারা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন বলেন, “মরম আলী ও আনোয়ার হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার সালিস করেছি। এর আগেও আনোয়ারকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছিল। তখন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত।”

নিহতের ছোট ভাই প্রবাসী সজল বলেন, “পরিকল্পিতভাবেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুই পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক কষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত আনোয়ারের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও চুরিসহ নানা অভিযোগ ছিল। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তার প্রতি বিরূপ মনোভাব ছিল। যদিও তারা এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ড্রিম হলি মডেল একাডেমির উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের ভিড় জমে। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ড্রিম হলি মডেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন ফুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এ উপলক্ষে কটিয়াদী উপজেলায় কটিয়াদী, বোয়ালিয়া, আচমিতা, মসূয়া ও বনগ্রাম—এই পাঁচটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি কটিয়াদীর তরুণ ও যুবসমাজকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এম. এ. আমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম মাসুদ ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঞা শ্যামল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, জালালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম হিমেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, ক্রীড়ানুরাগী এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুই দল জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করে। দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন কর্মসূচি পালন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

মোশতাক আহমেদ শাহীন বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জেও ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।

সচেতনতামূলক লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন করা, পানি সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখা, মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহার এবং পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, নারিকেলের খোসা ও ভাঙা পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাইরে বের হলে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে—এমন পোশাক পরা এবং হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে এটিকে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন এর আগেও জেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

জমি বিরোধে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
জমি বিরোধে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল বাশার (৪৬) নামে এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়ির বারান্দায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. কাউছার (২৯), মোছা. জাহানারা (৫৪), এসতাক (৩৮) ও হিমেলকে (২৪)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের নিউটাউন এলাকায় আবুল বাশারের দুই শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে ২০২৩ সালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আবুল বাশার। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

আবুল বাশারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে মামলায় জামিনসহ বিভিন্ন কাজে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে ওই টাকা পরিশোধের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

আবুল বাশার জানান, দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করলে ক্রয়কৃত বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়ির বারান্দার গ্রিলে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে অভিযুক্তদের তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন আবুল বাশার। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. কাউছার তা অস্বীকার করে বলেন, আবুল বাশারের করা অভিযোগ সঠিক নয়। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ৫ লাখ টাকা দাবি এবং বাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।