সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

রুফটপ সোলার স্থাপনে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রুফটপ সোলার স্থাপনে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

দেশে রুফটপ সোলারের প্রসারে সহজ শর্তে ও কম খরচে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইডকলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় ইডকল ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) যৌথভাবে অর্থায়ন করবে। এ জন্য অর্থ বিভাগ থেকে প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ইডকলের সঙ্গে ৫০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই অর্থ ইডকল তাদের ডিমান্ড এগ্রিগেটরদের মাধ্যমে রুফটপ সোলার স্থাপনে আগ্রহী গৃহস্থালি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ হিসেবে দেবে। এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ করেছে। এই কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে ১০ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা গৃহস্থালি ও বেসরকারি খাতে রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

দেশের শিল্পায়ন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ইসলাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর। ১৯৯৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শিল্পোদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় যে অবদান রেখে গেছেন, তা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, সরলতা, দয়াশীলতা, কর্মনিষ্ঠা, ধর্মপরায়ণতা ও আত্মপ্রচারবিমুখতা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সীমিত সুযোগের একটি সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের সামর্থ্য, শ্রম ও দূরদর্শিতার ওপর আস্থা রেখে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে নানা শিল্প ও বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান। দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বতন্ত্র অবস্থান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও রেখে যান উল্লেখযোগ্য অবদান।

আলহাজ জহুরুল ইসলাম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ আফতাব উদ্দিন আহমদ এবং মাতা বেগম রহিমা। কলকাতার রিপন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কিছুদিন কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ত বিভাগে স্বল্প বেতনে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ব্যবসার দিকে নিয়ে যায়। চাকরি ছেড়ে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৫১ সালে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর শিল্পোদ্যোগের দীর্ঘ যাত্রা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ, প্রকৌশল, ভূমি ও গৃহায়ন ব্যবস্থাপনা, পাট ও পাটজাত পণ্য, গাড়ি সংযোজন, ওষুধ, ব্যাংকিং, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগের বিস্তার ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে ইসলাম গ্রুপের অধীনে গড়ে ওঠে বহু শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সীমিত সুযোগের চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগে কর্মক্ষেত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী চিন্তা তাঁকে ব্যবসায়িক সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

১৯৭৫ সালে জহুরুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিদেশে কাজের সুযোগ সম্প্রসারিত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেন।

ব্যবসা ও শিল্পের বিভিন্ন খাতে তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর পোল্ট্রি খামার সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কয়েক শ পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এসব খামারের মাধ্যমে বহু তরুণ-তরুণী ও তাঁদের পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের বিকাশেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি আর্থিক খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িত। শিল্প ও আর্থিক খাতে উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশে অবদান রাখেন।

শিল্প ও ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারকে জহুরুল ইসলাম সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখতেন। বিশেষ করে নিজ জন্মস্থান বাজিতপুরের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। ঢাকা ও বাজিতপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসা তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিচয় বহন করে।

তাঁর উদ্যোগ ও সহায়তায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার পুরানা পল্টনের বেগম রহিমা আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও পুরানা পল্টন মসজিদ, পল্লবীর মাজেদুল ইসলাম মডেল হাইস্কুল, পল্লবী এতিমখানা ও মাদ্রাসা। বাজিতপুরে রয়েছে আফতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম রহিমা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হাফেজ আবদুর রাজ্জাক উচ্চ বিদ্যালয়, রাজ্জাকুন্নেসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুল, সরারচর শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বাজিতপুরকে ‘এডুকেশন সিটি’ ও ‘হেলথ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি ঘন ঘন বাজিতপুরে যাতায়াত করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাবিদ এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জহুরুল ইসলাম এডুকেশন কমপ্লেক্স’।

নিজ এলাকার শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিস্তারকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য নিজ এলাকায় থেকেই শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

জহুরুল ইসলামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জহুরুল ইসলাম নার্সেস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। চিকিৎসাশিক্ষার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন; বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও এখানে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষা ও চিকিৎসাকে একই উদ্যোগের আওতায় এনে তিনি নিজ এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। ভাগলপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ তাঁর দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক চিন্তার পরিচয় বহন করে। একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব রয়েছে।

তাঁর স্বপ্ন ছিল, বাজিতপুর শুধু নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিচিত থাকবে না; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম স্থায়ী উত্তরাধিকার।

জহুরুল ইসলামের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দানশীলতা। এতিম, অসহায় বৃদ্ধ, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের তিনি সহায়তা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে অর্থসাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি বহু আলেমকে নিজের খরচে হজ করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তাঁর জীবন ও কর্মসম্পর্কিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর দানশীলতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল আত্মপ্রচারবিমুখতা। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি গোপনে সাহায্য করতেন। মানুষের দুর্দশা লাঘব করা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ব্যক্তিদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করাকে তিনি মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর অবদানের কথা বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনে ‘সুবেদ আলী’ ছদ্মনামে নিয়মিত অর্থসাহায্য দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন বলে সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদের বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনা তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মগোপনে থেকে সহায়তা করার মানসিকতার একটি দিক তুলে ধরে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর কাছে সাফল্য কেবল ব্যবসায়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখাকেও তিনি গুরুত্ব দিতেন।

কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তার মাধ্যমে জহুরুল ইসলাম নিজের কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখেন।

১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, একমাত্র পুত্র মঞ্জুরুল ইসলামসহ বহু আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে যান। পরে নিজ গ্রাম ভাগলপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মূল্যায়ন করা সহজ নয়। তবে শিল্প ও বাণিজ্যে উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর উদ্যোগ আজও তাঁর কর্মময় জীবনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কর্ম, অবদান ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর জীবন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, পেশাজীবী এবং সমাজকল্যাণে আগ্রহী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ, কর্মনিষ্ঠা ও জনকল্যাণের চেতনাকে ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।

ভৈরবে চাঁদা নিয়ে বিরোধ, দুই কারখানা মালিককে কুপিয়ে জখম

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
ভৈরবে চাঁদা নিয়ে বিরোধ, দুই কারখানা মালিককে কুপিয়ে জখম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চাঁদা না পেয়ে একটি কারখানার দুই মালিককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে শহরের চণ্ডিবের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন চণ্ডিবের এলাকার মৃত শহীদ মিয়ার ছেলে নুরুল হক (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই মাসুদ রানা (৪০)। তাঁরা ওই এলাকায় অবস্থিত খাঁজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। কারখানাটিতে গুনা (তার) উৎপাদন করা হয়। আহত নুরুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাই মাসুদ রানা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহত নুরুল হকের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তাঁরা দুই ভাই মিলে খাঁজা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করেন। কারখানাটি লাভজনক হওয়ার পর থেকে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী ও তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন তাঁদের কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রথম দিকে ভয়ে তাঁরা মাঝেমধ্যে চাঁদা দিলেও পরে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করায় তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

নুরুল হক বলেন, রোববার দুপুরে তাঁরা দুই ভাই কারখানা থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিলেন। এ সময় মোহাম্মদ আলী, তাঁর ছেলেসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলায় তাঁদের হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তাঁরা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তাঁর ভাই মাসুদ রানাকে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের ভগ্নিপতি মো. রবিন মোল্লা বলেন, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শ্যালকদের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রোববার দুপুরে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল করিম বলেন, আহত দুই ভাইয়েরই হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। নুরুল হকের দুই পায়ের মধ্যে একটি ভেঙে গেছে। তাঁর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাসুদ রানাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর তাঁরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ওসির নির্দেশে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে কটিয়াদীতে অসচ্ছল সনাতন পরিবারকে শাড়ি উপহার

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজা উপলক্ষে কটিয়াদীতে অসচ্ছল সনাতন পরিবারকে শাড়ি উপহার

শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ২০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলোর কাছে এসব শাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

রোববার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ শাড়ি বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনি আক্তার তারানা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন ও শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম জায়দুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু এবং উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্যসচিব বিপ্লব চন্দ্র রায় নিমাইসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনসহ অতিথিরা অসচ্ছল পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা শাড়ি বিতরণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপের মাধ্যমে মোট ২০০টি পরিবারের জন্য ২০০টি শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্গাপূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের আগে এ ধরনের সহায়তা পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে পূজামণ্ডপের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অসচ্ছল পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় এসেছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।